আজ স্বামী বিবেকানন্দের ১৬১তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির পৈতৃক বাড়িতেও সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
গোটা দেশেই স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও যুব সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৮৫ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনকে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তার পর থেকেই প্রতি বছর এই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়ে আসছে।
যুব সমাজের প্রতি স্বামীজির আহ্বান ছিল— “ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” কর্মজীবন সম্পর্কে তাঁর বার্তা ছিল, “সারাদিন চলার পথে যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হও, তাহলে বুঝবে তুমি ভুল পথে চলেছ।”
শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ঐতিহাসিক ভাষণের সূচনা তিনি করেছিলেন ‘ভাই ও বোন’ সম্বোধন দিয়ে। মানবসেবাকেই ঈশ্বরসেবা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”
চরিত্র গঠনের প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “নিজের উপর বিশ্বাস না এলে, ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস আসে না।” তাঁর মতে, “যে রকম বীজ আমরা বুনি, সে রকমই ফসল আমরা পাই। আমরাই আমাদের ভাগ্য তৈরি করি।”
ভয়কে জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু বলে উল্লেখ করে স্বামীজি বলেছিলেন, “ভয়ই মৃত্যু, ভয়ই পাপ, ভয়ই নরক।” ভয়হীন, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্ববান যুবসমাজ গড়ার বার্তাই আজও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন