Top News

৭ কোটি ৮ লক্ষের তালিকা, তবু অমীমাংসিত বহু নাম—কী বলছে কমিশন?

আগামীকাল, শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। কিন্তু প্রকাশের আগেই স্পষ্ট, প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ নয়। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’-র আওতায় থাকা বহু নামের নথি যাচাই এখনো বাকি, যা ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও যাচাই চলবে।



সূত্রের খবর, প্রথমে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। সংশোধনের পর ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে তালিকা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষে। শনিবার প্রকাশিত তালিকায় এই ৭ কোটি ৮ লক্ষ নামই থাকবে, তবে তিনটি আলাদা শ্রেণিতে—‘Approved’, ‘Deleted’ এবং ‘Under Adjudication’। প্রায় ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন, যেগুলির নথি পরীক্ষা করছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নতুন ভোটারদের জন্য আলাদা সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও যুক্ত হবে।

কাজের চাপ ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিচারক ঘাটতি মেটাতে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে প্রায় ২০০ সিভিল জজ আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁরা ‘SIR’ প্রক্রিয়ায় নথি যাচাইয়ের কাজে যুক্ত হবেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন বিচারকরাও এই কাজে নিয়োজিত।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, খসড়া তালিকার ফর্ম্যাটই বজায় থাকবে। কেবল বিচারাধীন নামগুলির পাশে ‘Under Adjudication’ এবং বাতিল হওয়া নামের পাশে ‘Deleted’ উল্লেখ থাকবে।

এদিকে প্রক্রিয়ার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে মুখ্যসচিব, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও ডিজি-সহ শীর্ষ কর্তাদের বৈঠক হয়। শুরুতে লগ-ইন ও পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা সামনে এলেও তা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, তালিকা প্রকাশ হলেও প্রক্রিয়া থামছে না। মনোনয়ন জমার শেষ দিন পর্যন্ত সংশোধিত তালিকাই নির্বাচনে কার্যকর হবে।

প্রশ্ন থাকছে, তালিকা প্রকাশের পরও যদি সংশোধন চলে, তাহলে ভোটারদের আস্থা কতটুকুই বা বজায় থাকবে? যাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’, তাঁদের কি যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে নিজেদের বক্তব্য রাখার?

মনোনয়ন জমার শেষ দিন পর্যন্ত যদি পরিবর্তন চলে, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণে তার প্রভাব কতটা পড়বে এখন সেটাই দেখার।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন