Top News

রাশিয়া থেকে ২৮৮ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পরই সিদ্ধান্ত

 



দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ২৮৮টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তাবে নীতিগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর। সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরই এই সিদ্ধান্তে গতি আসে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই ছিল সরকারের অগ্রাধিকার।


কী এই এস-৪০০?


রাশিয়ার তৈরি S-400 Triumph বিশ্বে অন্যতম আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত শত্রু বিমান, ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক ও আক্রমণের ক্ষমতা থাকায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে এস-৪০০ চুক্তি করেছে। নতুন ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে বিভিন্ন ফ্রন্টে মোতায়েন থাকা ব্যাটারিগুলোর সক্ষমতা ও রিজার্ভ শক্তি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা বলয় আরও ঘন হবে।


‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপট


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘপাল্লার সুরক্ষা কতটা জরুরি। সীমান্ত পরিস্থিতির ওঠানামা, ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং আধুনিক মিসাইল প্রযুক্তির বিস্তার—সব মিলিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আপগ্রেড করা সময়ের দাবি ছিল।


কৌশলগত বার্তা


এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত একদিকে তার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তি-সমীকরণেও স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এস-৪০০ কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নয়, এটি এক ধরনের “ডিটারেন্স” বা প্রতিরোধের শক্তি, যা সম্ভাব্য শত্রুকে আগেভাগেই সতর্ক করে দেয়।


আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া


রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। তবে অতীতে এই চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা হয়েছিল। তবু কৌশলগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই ভারত এগিয়েছে। নতুন অনুমোদন সেই ধারাবাহিকতারই ইঙ্গিত।

দেশের আকাশসীমা আরও সুরক্ষিত করতে ২৮৮ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার এই সিদ্ধান্তকে প্রতিরক্ষা মহল ‘গেম চেঞ্জার’ বলেই দেখছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার যে বার্তা কেন্দ্র দিতে চেয়েছিল, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট প্রতিফলন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন