সুপ্রিম কোর্টে ফের অপেক্ষা, কবে মিটবে I-PAC বিতর্ক? একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে শুনানি, প্রশ্নের মুখে বিচারপ্রক্রিয়া।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব মেহতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, সরকার পক্ষের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও, ইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ফের ওঠার কথা ছিল। কিন্তু আইনজীবীর অসুস্থতার কারণে ফের পিছিয়ে যায় শুনানি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তল্লাশি চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলে ইডি। প্রশ্ন আসছে এভাবে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি কি শুধুই প্রশাসনিক দায়িত্ব, না কি তদন্তে হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি হস্তক্ষেপ করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারও ইডির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে।
গত ১৫ জানুয়ারির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য হলফনামা জমা দেয়। সেখানে ইডির মামলা খারিজের আবেদন জানানো হয়। রাজ্যের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার ইডির নেই।
পাশাপাশি তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাজ্যের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, আইপ্যাক কর্তৃপক্ষকে কোনও আগাম নোটিস না দিয়েই অভিযান চালানো হয়েছিল, যা আইনসঙ্গত নয়। রাজ্যের মতে, ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার পরিপন্থী।
অন্যদিকে, ইডির বক্তব্য, তল্লাশি চলাকালীন তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের চেষ্টা হয়। সেই কারণেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
একাধিকবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় এই মামলার ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল। এমনিতেই ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তপ্ত গোটা রাজ্য তার মধ্যে এই টানাপোড়েন রাজ্য রাজনীতিতে আরো উত্তাপ যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয় আগামী দিনে এই মামলা রাজ্য-রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলে। সেদিকেই তাকিয়ে এখন গোটা রাজ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন