আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা। কিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছিল, শিলিগুড়ি করিডরের সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকা এবং বিহারের কয়েকটি জেলা মিলিয়ে একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্র।
![]() |
| PIB Fact Check |
কেন্দ্রের ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা Press Information Bureau (PIB) সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়েছে, বিহারের কিছু জেলা এবং শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অঞ্চল নিয়ে কেন্দ্রশাসিত এলাকা গঠনের যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। সরকার এমন কোনও প্রস্তাব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে না বলে জানানো হয়। পাশাপাশি, এই ধরনের তথ্য ছড়ানোর আগে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রের ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা PIB।
এর মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্যপাল পদে বড় রদবদল করেছে কেন্দ্রের Government of India। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল C. V. Ananda Bose-কে সরিয়ে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আনা হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল R. N. Ravi-কে। একই সঙ্গে বিহারের রাজ্যপাল Arif Mohammad Khan-কেও পদ থেকে সরানো হয়েছে।
এছাড়া, আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত Taranjit Singh Sandhu-কে দিল্লির নতুন রাজ্যপাল করা হয়েছে। কেরলের রাজ্যপাল Rajendra Vishwanath Arlekar-এর হাতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড, হিমাচলপ্রদেশ এবং লাদাখেও নতুন রাজ্যপাল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করেছে কেন্দ্র।
এই রদবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু দক্ষিণপন্থী অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, অনুপ্রবেশের কারণে বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার এবং শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। সেই কারণেই নাকি ওই অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনা চলছে।
এই প্রসঙ্গেই সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “দিল্লির বাবুরা নাকি বাংলা–বিহার ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করবে! বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক।”
তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের অংশ নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির কোনও পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।
তবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলা বিহার ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করার মতো একটা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনো ভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কি ভাবে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ধর্না মঞ্চে বসে এমন বিতর্কিত মন্তব্য রাখেন? তথ্য যাচাই না করে বক্তব্য রাখা তবে কি এটাই জননেত্রীর পরিচয়?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন