আবারও জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান। পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই ভাণ্ডারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। শুধুমাত্র ছাড় পাচ্ছে চিন। ইরানের কর্পসের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের পশ্চিমী বন্ধু দেশগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জন্যও বন্ধ হয়েছে হরমুজ প্রণালীর দ্বার।
মরার উপর খাঁড়ার ঘা: আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাত
পাকিস্তানের বিপদের শেষ নেই। একটা সংকট কাটতে না কাটতেই আরেকটা সংকট। একদিকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংকট, ওপর দিকে যুদ্ধ সংকট। ক্রমশই আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পাকিস্তানের পারদ ঊর্ধ্বমুখী।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে জঙ্গিরা পাকিস্তানের মাটিতে নানা জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ধ্বংস করতে আফগানিস্তানে থাকা সেই সব জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য হামলা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গজ়ব লিল-হক’। কিন্তু অপরদিকে তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাক সেনা জঙ্গি ঘাঁটি ছাড়াও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইচ্ছাকৃত হামলা চালিয়েছে। ফলস্বরূপ বদলা নিতে আফগানিস্তান পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটিগুলোর উপর পরপর হামলা চালিয়েছে। ধ্বংস করেছে সেনা ঘাঁটি। এই ভাবেই একে অপরকে জবাব দিতে যুদ্ধ চলতে থাকে।
ইতিমধ্যেই কিছু মাস আগে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের ফলে বহুলাংশেই দুর্বল হয়ে পড়েছে পাক সেনার যুদ্ধ ঘাঁটি। তার উপর মাস ঘুরতে না ঘুরতেই আবার সেনা ঘাঁটির উপর হামলা প্রত্যক্ষভাবে ধ্বংস করেছে পাক শক্তি। তার উপর জ্বালানি সংকট। অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছে পাকিস্তান।
সূত্রের খবর, সমাধানস্বরূপ দেশবাসীর সুরক্ষা ও জ্বালানি বাঁচাতে কোভিড কালের মতোই ব্যবস্থা নিতে চলেছে পাকিস্তান। দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা হতে পারে। কমপক্ষে সপ্তাহে দু-দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
দেশের এই চরম সংকটে আপাতত যুদ্ধবিরতি চাইছে পাকিস্তান। দেশের এমন পরিস্থিতিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে তাদের। সবদিক থেকে আজ ভেঙে পড়েছে পাকিস্তান। এখন দেখার বিষয় কোন পথে দেশকে রক্ষা করবে পাকিস্তান? কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? অপেক্ষা শুধু সময়ের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন