ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে এত উত্তেজনা কেন? ফর্ম ৬ জমা দেওয়া ঘিরে মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তুমুল বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তি, এমনকি লাঠিচার্জের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল স্ট্র্যান্ড রোড।
![]() |
| ভোটার তালিকা নিয়ে রাস্তার লড়াই। ফর্ম ৬ ঘিরে সিইও অফিসের সামনে উত্তেজনা |
ঘটনার সূত্রপাত, এক যুবক প্লাস্টিকের প্যাকেটে ফর্ম ৬ জমা দিতে সিইও অফিসে এলে তাঁকে ‘হাতেনাতে ধরার’ অভিযোগ তোলে তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা। তাঁরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। যদিও ওই কাগজ সত্যিই ফর্ম ৬ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান, উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
দু’পক্ষকে আলাদা করতে গার্ডরেল দেওয়া হলেও তা ভেঙে এগোনোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির মধ্যে কয়েকটি বাইক রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, পুলিশ একপক্ষকে বেশি টার্গেট করছে, যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে হামলার।
ফর্ম ৬ ঘিরে এই সংঘাত নতুন নয়। এর আগেই তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, বিজেপি বাইরে থেকে ভোটার এনে রাজ্যের তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করছে। এমনকি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয় ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য বা ঠিকানা বদলের ক্ষেত্রে। তাই এই ফর্মকে ঘিরে বিতর্ক সরাসরি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সঙ্গে যুক্ত।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ভোটার তালিকা কি রাজনৈতিক সংঘর্ষের নতুন ময়দান হয়ে উঠছে? সাধারণ ভোটারদের অধিকার রক্ষার বদলে কি দলীয় লড়াইই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? আর গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াই যদি এমন উত্তেজনার মধ্যে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা কোথায়?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন