টলিপাড়ায় হঠাৎই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রোববার তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং শেষে সমুদ্রে নেমে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (৪৩)। ঘটনাটি শুধু শোকই নয়, রেখে গেছে একাধিক প্রশ্নও।
সকাল থেকে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারিতে। বিকেলের দিকে প্যাকআপ হওয়ার পর ইউনিটের অনেকেই বিশ্রামে যান। সেই সময় একাই সমুদ্রে নামেন রাহুল—এমনটাই জানিয়েছেন ইউনিটের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জলের মধ্যে গিয়ে আচমকাই সমস্যায় পড়েন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, বালির মধ্যে পা আটকে যায় এবং সেই সময়ই ঢেউ এসে আছড়ে পড়ায় ভারসাম্য হারান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি ডুবে যেতে থাকেন। সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রই প্রথম চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করেন।
তড়িঘড়ি করে তাঁকে জল থেকে তুলে আনা হয়। সহ-অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর কথায়, তখনও রাহুলের শরীরে প্রাণ ছিল। কেউ বলছেন, তিনি হয়তো সাঁতার জানতেন না, আবার কেউ মনে করছেন কোথাও আটকে গিয়েছিলেন।
উদ্ধারের পর দ্রুত গাড়িতে করে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথে যানজটের কারণে সময় নষ্ট হয়। প্রোডাকশন টিমের সদস্যরা গাড়ির মধ্যেই তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান। তখনও তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আপাতত মরদেহ দিঘার মর্গে রাখা হয়েছে, সোমবার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে—কেন তিনি একা সমুদ্রে নামলেন? শুটিং স্পটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল কি? দ্রুত চিকিৎসা পেলে কি তাকে বাঁচানো যেত?
উত্তর এখনও মেলেনি। তবে একথা নিশ্চিত, হঠাৎ এই মৃত্যুতে সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন