Top News

নেপাল নির্বাচন ২০২৬: জেন জি আন্দোলনের পর প্রথম ভোট গ্রহণ

ভারতের তীব্র নজর এখন প্রতিবেশীর ঘরে। গত বছর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তীব্র জেন জি আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আজ প্রথম স্বাধীন সরকার নির্বাচিত হতে চলেছে নেপালে। আজ ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন। আজ এই ভোটের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ ও দেশবাসীর ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। সাম্প্রতিক বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নেপালের আজকের ভোট গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।



গত বছর আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়। এর পর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ছয় মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যা আজ তাঁর নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়।

এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা - Sher Bahadur Deuba (নেপালি কংগ্রেস), K. P. Sharma Oli (কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল–ইউএমএল) এবং Pushpa Kamal Dahal (মাওবাদী কেন্দ্র)। দীর্ঘদিন ধরে এই নেতারাই নেপালের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

তবে এবারের নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান। পরিবর্তনের দাবিতে উঠে এসেছে বহু নতুন মুখ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন Rabi Lamichhane, যিনি আগে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং বর্তমানে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির নেতা। অন্যদিকে কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র Balen Shah-ও তরুণ ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়াও নেপালি কংগ্রেসের নেতা Gagan Thapa-কেও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোট কীভাবে হবে?

বর্তমানে নেপালে প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। ২৭৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটদানে অংশ নেবেন।

মোট ৩,৪০০ জনেরও বেশি প্রার্থী দাঁড়িয়ে আছেন, যাদের মধ্যে ১,০০০ জনেরও বেশি প্রার্থী ৪০ বছরের কম বয়সী।

ভোটগ্রহণ স্থানীয় সময় সকাল ৭:০০ টায় (০১:১৫ GMT) শুরু হবে এবং স্থানীয় সময় বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত চলবে।

তবে, দেশের কিছু অংশে ভোটকেন্দ্রগুলি পরে খোলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যাতে যেসব ভোটার ভোট দিতে ইচ্ছুক তারা সকলেই যেন তাদের ভোট দিতে পারে। এর আগে নির্বাচনে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অব্যাহত ছিল। এবার এ বছর দেখার বিষয় নির্দিষ্ট সময় ছাড়াও আর কোন কোন এলাকায় আগের মতো ভোট অব্যাহত থাকে।

নির্বাচনের ফলাফল আমরা কখন জানতে পারব?

নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের ফলাফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দেশ জুড়ে পাহাড়ি অংশে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করে গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। ফলে সাধারণভাবেই অনুমান করা হচ্ছে পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় নির্বাচনের ফলাফল জানতে কমপক্ষে এক দিন সময় লাগতে পারে। এভাবে সব কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করা ও গণনা করতে মোট আনুপাতিকভাবে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে অনুমান।

দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারী জানিয়েছেন যে আগামী ৯ মার্চের মধ্যে গণনা প্রকাশ পেতে পারে বলে সম্ভাবনা।

২০২২ সালে শেষ নির্বাচনের সময় ফলাফল প্রকাশ পেতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এবার দেখার বিষয় এই বছর কী ফলাফল দেখা যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই - নেপালের মানুষ কি আবারও পুরনো নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখবে, নাকি পরিবর্তনের আশায় দেশের ভবিষ্যৎ নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেবে। শুধু নেপাল নয়, ভারতের কাছেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন