মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাসীর জন্য খুশির খবর! পকেটের টান কমতে পারে সাধারণ মানুষের। সৌজন্যে— ইরান ও আমেরিকার সম্ভাব্য শান্তি বৈঠক।
গত কয়েকদিন ধরে চলা চরম অশান্তির পর অবশেষে একটু স্বস্তির আশ্বাস। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে পারে আমেরিকা ও ইরান। সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই বৈঠকে সরাসরি হাজির থাকতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও নাকি এই আলোচনায় সবুজ সংকেত দিয়েছে। আর এই খবরের জেরেই বিশ্ববাজারে একধাক্কায় অনেকটা কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
তেলের দামে কতটা পতন?
সোমবারই যেখানে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল, সেখানে দিন ঘুরতে না ঘুরতেই মঙ্গলবার চিত্রটা পুরো পাল্টে গেলো।
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৩ ডলার।
WTI ক্রুড: মে মাসের চুক্তিতে দাম কমে হয়েছে ৮৮.০৭ ডলার। জুন মাসের দামও কমেছে প্রায় ১.৩ শতাংশ।
কেন এই অস্থিরতা?
খুব সহজভাবে বললে, সোমবার পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং আমেরিকা একটি ইরানি জাহাজ আটক করায় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। কারণ, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। কুয়েতও তেল রপ্তানি নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিল। ফলে তেলের দাম এক লাফে ৫-৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল।
স্বস্তি কি দীর্ঘস্থায়ী হবে?
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবটাই ঝুলে আছে এই শান্তি বৈঠকের ওপর। তবে ইতিবাচক দিক, যদি ইসলামাবাদ বৈঠক সফল হয়, তবে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আরও বাড়তে পারে। এতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেই অনুমান। তবে আশঙ্কার দিক, ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তাদের অভিযোগ আমেরিকা বারবার নিয়ম ভাঙছে। এভাবে ভয় দেখানো হলে তারা আর আলোচনায় বসবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে যদি এই কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।
আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। কূটনৈতিক টেবিলে শান্তি ফিরলে তবেই মধ্যবিত্তের পকেটে স্বস্তি বজায় থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন