Top News

লাদাখে নতুন জেলা গঠন: কার্গিলে উদ্বেগ, উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ

 


লাদাখের জেলা গঠনে ধর্মীয় বৈষম্য 

 কলকাতা ৩০ এপ্রিল :-২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ-এ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে মোট জেলার সংখ্যা ৭-এ উন্নীত করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা। নতুনভাবে গঠিত ৫টি জেলা হল—নুব্রা, শাম, চাংথাং, জান্সকার এবং দ্রাস।

এই পুনর্গঠনের পরই কার্গিল জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংগঠন কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (KDA) সহ একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছেন যে, নতুন জেলা বিন্যাসে জনসংখ্যা ও ধর্মীয় ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি।


কার্গিলের নেতাদের দাবি, নতুন ৭টি জেলার মধ্যে মাত্র দুটি—কার্গিল ও দ্রাস—মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা। অন্যদিকে, লেহ, নুব্রা, শাম, চাংথাং এবং জান্সকার—এই ৫টি জেলা বৌদ্ধ অধ্যুষিত বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বে একটি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, লাদাখের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৭৪ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৪৬.৪০ শতাংশ মুসলিম এবং ৩৯.৬৫ শতাংশ বৌদ্ধ। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে কার্গিলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি, সেখানে তাদের জন্য মাত্র ২টি জেলা কেন, আর তুলনামূলক কম বৌদ্ধ জনসংখ্যার জন্য ৫টি জেলা কেন তৈরি করা হল?


নতুন মানচিত্র অনুযায়ী, কার্গিল জেলা প্রায় ৮০টি গ্রাম নিয়ে সবচেয়ে বড় জেলা হিসেবে রয়ে গেছে। বিপরীতে নবগঠিত জেলাগুলির আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ ও পরিষেবা বণ্টনে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


কার্গিলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সাঙ্কু-সুরু এবং শাকার-চিকতান-শারগোল অঞ্চলকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণা করা। কিন্তু নতুন জেলা গঠনের ঘোষণায় সেই দাবিগুলি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।


লাদাখে নতুন জেলা গঠন প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যেই করা হলেও, কার্গিলের একাংশের মতে এতে জনবিন্যাস ও প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন