Top News

অভয়ার ৩৩তম জন্মদিন: বিচার কি শুধুই রাজনৈতিক প্রহসন?

 

আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬অভয়ার ৩৩তম জন্মতিথি। অথচ আজও বিচার অধরা। একটি প্রদীপ, একটি প্রশ্ন এবং একরাশ অন্ধকার,আজ ৯ই ফেব্রুয়ারি। অভয়া যদি বেঁচে থাকতেন, তবে আজ তার বাড়িতে শঙ্খ বাজত, প্রদীপ জ্বলত। আজ তার ৩৩তম জন্মদিন ছিল। কিন্তু আজ সেখানে শুধুই শোকের ছায়া আর একরাশ না পাওয়া উত্তর। ২০২৪-এর সেই অভিশপ্ত ৯ই আগস্টের পর থেকে সময় অনেক গড়িয়েছে, কিন্তু বাংলার মাটি কি আজও তার মেয়ের বিচারের জন্য কাঁদছে না? আজ অভয়ার জন্মদিনে প্রশ্ন একটাই—আসলেই কি ন্যায় মিলল? নাকি ফাইলের স্তূপে আর নেতাদের বক্তৃতায় চাপা পড়ে গেল সত্য?

শাসক দলের ভূমিকা: প্রমাণ লোপাট নাকি উন্নয়নের মোড়ক?


আরজি করের ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠেছে। তড়িঘড়ি করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ থেকে শুরু করে ‘সুইসাইড’ তত্ত্ব খাড়া করা—সবই আজ মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। আজ যখন মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা ভাতার কথা বলেন, তখন কি তিনি অভয়ার মা-বাবার চোখের জলের কথা ভাবেন? ৫০০ বা ১০০০ টাকায় কি একটা জীবনের দাম মেটানো সম্ভব? যে রাজ্যে হাসপাতালের সেমিনার হলে ডাক্তাররা নিরাপদ নন, সেখানে ‘উন্নয়ন’ শব্দটা কি স্রেফ প্রহসন নয়?

বিরোধী দলের দ্বিমুখী নীতি: বিচারের নামে ভোট ব্যাংক?

বিজেপি থেকে শুরু করে বাম-কংগ্রেস—সবাই রাজপথ কাঁপিয়েছিল। কিন্তু আজ যখন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন সামনে, তখন কি তারা অভয়াকে স্রেফ একটা ‘ইলেকশন ইস্যু’ হিসেবে ব্যবহার করছে না? বিরোধীরা যখন দিল্লিতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়, তখন নিজের শাসিত রাজ্যে কেন একই অপরাধের বিচার দিতে দেরি হয়? আরজি কর নিয়ে কেন শুরু হলো ‘কম্প্যারেটিভ পলিটিক্স’? অভয়ার লাশ কি তবে স্রেফ রাজনীতির রুটি সেঁকার হাতিয়ার হয়ে গেল?

তদন্তকারী সংস্থা ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা: কার স্বার্থে এই দেরি?

সিবিআই (CBI) তদন্তভার হাতে নিয়েছিল পাহাড় সমান আশা নিয়ে। কিন্তু কী পেল বাংলা? সঞ্জয় রায়কে ‘একমাত্র অপরাধী’ সাজিয়ে কি তবে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রকে আড়াল করা হচ্ছে? সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্ট—শুনানির পর শুনানি চলছে, কিন্তু পর্দার পিছনের রাঘব বোয়ালরা আজও কেন অধরা? বিচার ব্যবস্থার এই মন্থর গতি কি অপরাধীদের আরও সাহস জুগিয়ে দিচ্ছে না?

জনগণের প্রতি আহ্বান: চুপ থাকা মানেই অপরাধীর সাথ দেওয়া

অভয়া কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মের নয়। সে ছিল বাংলার মেয়ে। আজ তার জন্মদিনে আমাদের শপথ নিতে হবে—যেকোনো রাজনৈতিক রঙের উর্ধ্বে উঠে সত্যের জন্য লড়তে হবে। আজ যদি আপনি চুপ থাকেন, কাল আপনার বাড়ির মেয়েটিও এই সিস্টেমের বলি হতে পারে।

উপসংহার: লড়াই চলবে!

অভয়া, আমরা তোমাকে বিচার দিতে পারিনি, কিন্তু তোমাকে ভুলে যাইনি। এই জন্মদিন উদযাপনের নয়, এই দিনটি হলো প্রতিজ্ঞার। যতদিন না সেই গোপন ষড়যন্ত্রকারী আর মূল পাণ্ডারা সাজা পাচ্ছে, ততদিন এই বাংলার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হবে না।

আপনার মতামত জানান:

নিচের কমেন্ট বক্সে লিখুন—আপনার কি মনে হয়? অভয়া কি সত্যি বিচার পাবে? নাকি রাজনৈতিক আপসে হারিয়ে যাবে সত্য? আওয়াজ তুলুন।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন