আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, গোটা দেশ সাক্ষী হতে চলেছে এক বিশাল আন্দোলনের। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চের ডাকে দেশব্যাপী 'ভারত বনধ্' বা সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাস্তায় নামছেন দেশের প্রায় ৩০ কোটি শ্রমিক ও কর্মচারী।
এই ধর্মঘট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
কেন এই ভারত বনধ্? প্রধান দাবিগুলি কী কী?
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান নীতিগুলো শ্রমিক ও কৃষক বিরোধী এবং কর্পোরেট বান্ধব। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. শ্রম কোড বাতিল:
৪টি নতুন শ্রম কোড (Labour Codes) অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. পুরানো পেনশন প্রকল্প (OPS):
এনপিএস (NPS) বাতিল করে কোনো শর্ত ছাড়াই পুরোনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
৩. বেসরকারিকরণ রোধ:
ব্যাঙ্ক, বিমা (LIC), রেল এবং বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারিকরণ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
৩. ন্যূনতম মজুরি:
শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. MGNREGA রক্ষা:
১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (মনরেগা) শক্তিশালী করা এবং বকেয়া টাকা মেটানোর দাবি।
৫. কৃষক স্বার্থ:
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই এই চুক্তি বাতিল করতে হবে।
কারা থাকছেন এই আন্দোলনে?
এই ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে দেশের প্রভাবশালী ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, যার মধ্যে রয়েছে INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC সহ আরও বেশ কিছু সংগঠন। এছাড়াও:
• ব্যাঙ্ক ও বিমা কর্মী:
অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (AIBEA) ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
• বিদ্যুৎ কর্মী:
বিদ্যুৎ সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে সারা দেশের বিদ্যুৎ ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন।
• ছাত্র ও যুব সংগঠন:
SFI-এর মতো ছাত্র সংগঠনগুলোও শিক্ষার অধিকার ও কর্মসংস্থানের দাবিতে এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা
ধর্মঘটের ফলে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, ওড়িশা এবং অসমে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন:
সরকারি ও বেসরকারি বাস, অটো ও ট্যাক্সি চলাচল অনেক জায়গায় কম থাকতে পারে।
ব্যাঙ্কিং:
এটিএম পরিষেবা চালু থাকলেও শাখাগুলোতে কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
অফিস-কাছারি:
সরকারি ও কেন্দ্রীয় অফিসে হাজিরা কম হতে পারে। তবে জরুরি পরিষেবাগুলোকে (হাসপাতাল, দুধ, জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ) ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত মতামত:
শ্রমিক নেতাদের মতে, এবারের আন্দোলন গত বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। ৩০ কোটি মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সরকারের ওপর বড়সড় চাপ তৈরি করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন