লড়াইটা ছিল অসম, কিন্তু জেদটা ছিল পাহাড়সমান। গ্রামবাংলার মেঠো পথ থেকে উঠে এসে বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ জয় করা, আর এবার জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় দাপট দেখানো— এ যেন এক হার না মানা যুদ্ধের জীবন্ত দলিল। আমরা কথা বলছি বর্ধমানের সাহানুই গ্রামের মেয়ে অনন্যা কোলের কথা।
🔥 ৩০০-তে ২৪০! স্রেফ নম্বর নয়, এ এক বিপ্লব
UGC NET (ডিসেম্বর ২০২৫)-এর ফল প্রকাশিত হতেই দেখা গেল দর্শনের (Philosophy) পাতায় উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে একটি নাম— অনন্যা কোলে। ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৪০ নম্বর পাওয়া কোনো সাধারণ ব্যাপার নয়। এই নম্বর বুঝিয়ে দেয়, মেধা যখন পরিশ্রমের সাথে হাত মেলায়, তখন সাফল্য ধরা দিতে বাধ্য।
🎓 যাদবপুরের গর্ব, গ্রামের অহংকার
সুদেব কোলে ও তাপসী কোলের মেয়ে অনন্যা বরাবরই পড়াশোনায় ছিলেন তুখোড়। রসুলপুরের সাধারণ পরিবেশ থেকে গিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৪ সালে সেখান থেকে পিজি (PG) শেষ করেই থেমে থাকেননি। বর্তমানে তিনি একজন পিএইচডি রিসার্চ স্কলার। কিন্তু অনন্যার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি প্রমাণ করেছেন, সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও যদি একাগ্রতা থাকে, তবে দিল্লির তখতও জয় করা সম্ভব।
📍 সাহানুই গ্রামের অদম্য লড়াইয়ের উপাখ্যান
বর্ধমান জেলার রসুলপুর নিকটবর্তী সাহানুই গ্রাম আজ গর্বিত। গ্রাম থেকে শহর, আর শহর থেকে জাতীয় স্তরে নিজের নাম খোদাই করা অনন্যা আজ হাজারো ছাত্রছাত্রীর কাছে আইকন। অনন্যা মনে করেন, "সাফল্যের কোনো শর্টকাট হয় না, শুধু দরকার সঠিক লক্ষ্য আর দর্শনের মতো গভীর বিষয়ের ওপর অগাধ ভালোবাসা।"
📌অনন্যার এই জয় কেবল একটি রেজাল্ট নয়, এটি সেই সব ছেলেমেয়েদের গালে সপাটে চড় যারা জীবনের ছোটো খাটো সমস্যা গুলোকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে। অনন্যা আজ বাংলার লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর চোখে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগালেন।
অনন্যা, আপনার এই উড়ান যেন কোনোদিন না থামে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন