পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। ১০ ফেব্রুয়ারি জারি হওয়া নির্দেশিকায় সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) ও জেলা শাসকদের জানানো হয়েছে, নোটিস সংক্রান্ত মামলা, দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই করতে হবে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর এক সপ্তাহের মধ্যে ইলেক্টোরাল রোল অফিসার (ERO) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ERO-দের নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নথির ভিত্তিতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। জমা দেওয়া আপত্তিগুলিও যথাযথভাবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত শুনানির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
রাজ্য নির্বাচন দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মানতে হবে। কোনও রকম গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআইআর-২০২৬ সংক্রান্ত কাজে যুক্ত সমস্ত ERO ও AERO-দের দ্রুত এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নির্বাচন দফতরের মতে, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এই কড়াকড়ি।
এদিকে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরেও মাইক্রো অবসার্ভার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বর্তমানে প্রায় ৮৫০৫ জনের একটি তালিকা কমিশনের স্ক্রুটিনিতে রয়েছে। যাচাই শেষ হওয়ার পরই নিয়োগ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিইও দফতরের তরফে রাজ্য প্রশাসনের কাছে এই প্রার্থীদের বায়োডাটা চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য না পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে।
আরও জানা গিয়েছে, গ্রুপ বি হিসেবে পাঠানো তালিকায় অন্যান্য গ্রুপের কর্মীরাও রয়েছেন। এর মধ্যে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক, টাইপিস্ট, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পদে কর্মরত আধিকারিকদের নাম রয়েছে। এমনকি কয়েকজন বর্তমানে AERO হিসেবে কাজ করছেন। ফলে তাঁদের মাইক্রো অবসার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে এই কর্মীদের পরিচয় ও যোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য চেয়েছেন। রাজ্যের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আপাতত কোনও নিয়োগ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, নতুন করে সিস্টেমে লগ ইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে সময় লাগবে প্রায় ৬ থেকে ৭ দিন। ফলে কবে নাগাদ মাইক্রো অবসার্ভার নিয়োগ সম্পূর্ণ হবে, তা নিয়েই সংশয় বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় রাজ্য জুড়ে SIR নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক কৌশল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন