একটি ‘এপিকে ফাইল’ ডাউনলোড, আর তারপরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি। শহরের মধ্যেই এমন সাইবার জাল পেতে বসেছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছ’জনকে গ্রেফতার করল Kolkata Police-এর গোয়েন্দা বিভাগ।
চলতি মাসের শুরুতে Survey Park Police Station-এ দায়ের হওয়া অভিযোগে জানানো হয়, একটি অচেনা লিঙ্ক পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে মোবাইলে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করানো হয়। সেই অ্যাপ ইনস্টল হতেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাঙ্ক-সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেয় চক্রটি। কয়েক দফায় মোট ১৯ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা সরানোর পরই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
ডিজিটাল ট্রেইল ধরে তদন্তে নেমে সোমবার রাতে সোদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় অরিন্দম দাস, শৌভিক ব্যাপারি, সায়ন রাজবংশী ও অর্পণ দাসকে। পরদিন Entally Police Station এলাকা থেকে ধরা পড়েন অনীশ সরকার ও দিলদার আনসারি। পুলিশ সূত্রে খবর, অনীশ বিভিন্ন উপায়ে মোবাইল-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক তথ্য জোগাড় করতেন। সেই তথ্য পৌঁছে দেওয়া হত দিলদারের কাছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দিলদারের যোগাযোগ রয়েছে ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক এক সাইবার প্রতারণা গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেখান থেকেই মূল লেনদেন ও টাকা তোলার প্রক্রিয়া চালানো হত।
তল্লাশিতে ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১২টি মোবাইল ফোন, একাধিক এটিএম কার্ড ও চেকবুক, সোনার চেন ও কানের দুল, দামি হাতঘড়ি, একটি গাড়ি এবং নগদ টাকা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, প্রতারণার টাকা দ্রুত গয়না, ইলেকট্রনিকস বা অন্যান্য দামী সামগ্রী কিনে ‘লন্ডার’ করা হত, যাতে উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই চক্রটি একাধিক জেলায় একই কৌশল প্রয়োগ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের ব্যাঙ্ক লেনদেন, কল ডিটেল রেকর্ড ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
তবেকি শহরে সাইবার প্রতারণার ধরন কি নতুন মোড় নিচ্ছে? সাধারণ নাগরিকের একটা ভুল ক্লিকই কি হয়ে উঠছে অপরাধচক্রের মূল অস্ত্র? তদন্তকারীরা বার বার সতর্ক করছেন, অচেনা লিঙ্ক বা এপিকে ফাইল ডাউনলোডের আগে বারবার ভাবুন। একবার ভুল হলেই কিন্তু আপনার সব রকম ব্যক্তিগত তথ্য ছবি ব্যাংক ডিটেলস সব প্রতারকদের হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে। তাই কিছু ক্লিক করার আগে বার বার ভাবুন বার বার যাচাই করুন তার পর ক্লিক করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন