রাজ্য জুড়ে একযোগে বড়সড় অভিযান চালাল আয়কর দফতর। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্তত ২০টি জায়গায় চলছে ইনকাম ট্যাক্সের তল্লাশি। ব্যবসায়ী, রিয়েল এস্টেট সংস্থা এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান। বিশেষ করে নগদ লেনদেন, ভুয়ো বিলিং এবং একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ লুকোনোর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই আজকের এই সমন্বিত তল্লাশি অভিযান।
কোথায় কোথায় চলছে তল্লাশি?
কলকাতার বালিগঞ্জ, সল্টলেক, নিউটাউন, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় একযোগে অভিযান চলছে। আধিকারিকদের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বেশ কিছু জায়গায় মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সকাল থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। বহু জায়গায় অফিসের দরজা সিল করে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি ও ডিজিটাল ডেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দফতর সূত্রে খবর।
কী অভিযোগ?
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিপুল অঙ্কের অঘোষিত আয় এবং কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। কয়েকটি সংস্থার ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে আয়ের তুলনায় সম্পত্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নজরে আসে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্ত শুরু করে আয়কর দফতর।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দফতরের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে না বলেই জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলির দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়াই উচিত। অন্যদিকে শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, তদন্ত হোক, তবে তা যেন নিরপেক্ষ হয়।
সামনে কী?
আয়কর দফতরের এই অভিযান কতটা বড় আর্থিক জাল উন্মোচন করে, এখন সেটাই দেখার। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।
রাজ্যবাসীর নজর এখন এই অভিযানের ফলাফলের দিকে। কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন