বৃহস্পতিবার সকালে ১৪ জন স্কুল পড়ুয়াকে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের এক গভীর পুকুরে উল্টে যায় একটি পুলকার। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে শিউরে ওঠে গোটা এলাকা। জলের নিচে তখন হাবুডুবু খাচ্ছে ১৪টি কচি প্রাণ। ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে? জানলার কাচ ভেঙে কীভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এল খুদেরা? রইল বিস্তারিত প্রতিবেদন।
ঘটনার বিবরণ: মুহূর্তের অসতর্কতায় বড় বিপর্যয়
বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাদলের চাঁপী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, স্কুল যাওয়ার পথে দ্রুত গতিতে থাকা পুলকারটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সোজা রাস্তার পাশের একটি বড় পুকুরে গিয়ে পড়ে। গাড়িটি দ্রুত ডুবতে শুরু করায় ভেতরে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে।
উদ্ধারকার্যে দেবদূতের মতো গ্রামবাসীরা
দুর্ঘটনাটি ঘটা মাত্রই পুকুরের পাড়ে থাকা পথচারীরা চিৎকার শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে ছুটে আসেন চাঁপী গ্রামের বাসিন্দারা। সময় নষ্ট না করে গ্রামবাসীরা জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গাড়িটি তখন জলের নিচে চলে যাচ্ছিল, আর ভেতর থেকে আসছিল শিশুদের বাঁচার আকুতি।
যেভাবে প্রাণ বাঁচল শিশুদের:
তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা:
গ্রামবাসীরা দেখেন গাড়ির দরজা লক হয়ে যাওয়ায় সেটি খোলা সম্ভব হচ্ছে না।
জানলার কাচ ভাঙা:
হাতের কাছে থাকা ভারী বস্তু দিয়ে ডুবন্ত পুলকারের জানলার কাচ ভেঙে ফেলা হয়।
একে একে উদ্ধার:
সেই ভাঙা জানলা দিয়েই একে একে ১৪ জন শিশুকে জলের নিচ থেকে টেনে বের করে আনেন স্থানীয়রা।
বর্তমান পরিস্থিতি
উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের সামান্য চোট লাগলেও বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। স্থানীয়দের তৎপরতা না থাকলে আজ বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারত বলে মনে করছেন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
"গ্রামবাসীরা যদি সময়মতো জলে না নামতেন এবং কাচ ভেঙে বাচ্চাদের বের না করতেন, তবে জলের নিচে শ্বাস আটকে কী হতো ভাবলেই শিউরে উঠছি," বলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
পুলিশি পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহিষাদল থানার পুলিশ। ঘাতক পুলকারটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। গাড়ির কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, কিংবা চালক মত্ত অবস্থায় ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্কুল পুলকারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা ফের একবার স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
১. কেন বারবার পুলকার দুর্ঘটনায় পড়ছে?
২. গাড়ির গতিবেগ কি নিয়ন্ত্রিত ছিল?
৩. যান্ত্রিক ফিটনেস সার্টিফিকেট কি ছিল ওই গাড়ির?
পূর্ব মেদিনীপুরের এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের স্কুল এবং অভিভাবকদের জন্য এক সতর্কবার্তা। শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন অনিয়ম আর কতদিন চলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন