রাজ্যে বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করতেই উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে বঙ্গ রাজনীতির পারদ। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন কি তবে এগিয়ে আসছে? নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামঝিতেই রাজ্যে ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা প্রবল। দোলের পরেই সম্ভবত বেজে যাবে নির্বাচনের রণদামামা।
দোলের পরেই কি ভোটের নির্ঘণ্ট?
কমিশন সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ পুনর্নিরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়ার সময়সীমা সামান্য বাড়ানো হলেও, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কমিশন পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করে দেবে।
সম্ভাব্য ঘোষণার সময়:
দোলের উৎসব মিটলেই অর্থাৎ মার্চের মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিক বৈঠক করে নির্ঘণ্ট বা 'শিডিউল' ঘোষণা করতে পারে।
ভোটের মাস:
সূত্র বলছে, এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাসের শুরুর মধ্যে একাধিক দফায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা (এক নজরে)
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা | মার্চের মাঝামাঝি (দোলের পর)
ভোট গ্রহণ শুরু | এপ্রিলের মাঝামাঝি
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা | মে মাসের প্রথম সপ্তাহ
কেন এপ্রিলে ভোটের তোড়জোড়?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের মে মাসের ৭ তারিখে। প্রথা অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক মাস আগে থেকেই ভোট প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয় যাতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা যায়। এছাড়া, এপ্রিল-মে মাসে রাজ্যের তীব্র দাবদাহ এবং বর্ষার আগমনের কথা মাথায় রেখেই কমিশন এই সময়টিকে বেছে নিতে চাইছে।
কমিশনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে:
অফিসার বদলি:
যে সমস্ত পুলিশ বা প্রশাসনিক আধিকারিকরা তিন বছরের বেশি এক জায়গায় আছেন বা নিজের জেলায় কর্মরত, তাঁদের ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ:
দিল্লি থেকে ইতিমধ্যেই সাধারণ, পুলিশ এবং ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিং দেওয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ইঙ্গিত মিলতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি।
তৃণমূল কংগ্রেস:
উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে ‘জনসংযোগ’ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে শাসক দল।
বিজেপি:
নিচুতলার কর্মীদের থেকে মতামত নিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে তারা।
বাম-কংগ্রেস:
জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে এখনো নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। উপরের তথ্যগুলি কমিশন ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন