আজ বাংলাদেশে বহুচর্চিত নির্বাচন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবার নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোট দিতে নামলেন ১২ কোটিরও বেশি মানুষ। আর সেই ভোটের প্রভাব সরাসরি পড়ল ভারতের সীমান্ত এলাকায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই বনগাঁ, বাগদা, পেট্রাপোল ও গাইঘাটা জুড়ে শুরু হয়ে যায় পুলিশের তৎপরতা। রাস্তায় রাস্তায় বসানো হয় নাকা চেকিং। থামানো হচ্ছে প্রতিটি গাড়ি। চলছে কড়া তল্লাশি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোট ঘিরে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই সীমান্ত এলাকায় কার্যত ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। পুলিশ, বিএসএফ এবং গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ নজরদারি চলছে।
রাতভর নজরদারি, সকাল থেকে নাকা চেকিং রাত থেকেই সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়। সকালে ভোট শুরু হতেই আরও কড়া হয় পাহারা। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট।
লেবুখালি ঘাটেও কড়া নজর হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালি ভেসাল ঘাটেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। নদীপথে কোনওরকম অবৈধ যাতায়াত রুখতে চলছে বিশেষ অভিযান। নৌকা ও ট্রলার থামিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। যাত্রীদের তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনিক নথির সঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এই নির্বাচন ঘিরে শুধু সীমান্ত নয়, রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা তুঙ্গে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কে হবেন বাংলাদেশের নতুন ক্ষমতাশালী নেতা— তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভোটের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই— ভোট মিটলেই কি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? নাকি সীমান্তে আরও চাপ বাড়বে? তবে প্রশাসন আপাতত কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাই ভোটের ফল প্রকাশের পরেও বেশ কয়েকদিন কড়া পাহারা বজায় থাকবে বলেই ইঙ্গিত। এখন শুধু অপেক্ষা— ভোটের রায় কোন দিকে যাবে, আর তার ঢেউ কতটা আছড়ে পড়বে দুই বাংলার সম্পর্কে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন