রাজ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা সবথেকে বড় প্রশাসনিক তৎপরতা আজ তার চূড়ান্ত লগ্নে। আজ, ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা *Special Intensive Revision (SIR)-এর শুনানির শেষ দিন।* আজকের পর আর কোনো আপিল বা নথিপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সারা বাংলার মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন *— শেষ পর্যন্ত কতজন ভোটারের নাম চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে?*
১ কোটি না কি তারও বেশি?
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ (১৫ মিলিয়ন) ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের জন্য শুনানির প্রয়োজন ছিল। এর মধ্যে একটা বিশাল অংশের শুনানি আজ সম্পন্ন হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বাদ গিয়েছে: ডিসেম্বর মাসের খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই ছাঁটাই করা হয়েছিল।
সীমা: রাজনৈতিক মহলের দাবি, আজ শুনানি শেষ হওয়ার পর বাদের তালিকায় নাম ওঠার সংখ্যাটি ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এবারের SIR প্রক্রিয়া সাধারণ ভোটারদের মনে এক অজানা আতঙ্ক তৈরি করেছে। তার প্রধান কারণগুলো হলো:
ডিজিটাল স্ক্রুটিনি: এবারই প্রথম এত বড় স্তরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, যেখানে সামান্য বানানের ভুল বা ঠিকানার অসঙ্গতি ধরা পড়লেই নাম বাতিলের তালিকায় চলে যাচ্ছে।
মৃত বনাম জীবিতের লড়াই: অভিযোগ উঠেছে, বহু জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজকের শুনানিতে তারা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
কমিশনের সময়সীমা: তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরুতেও প্রায় ৬৩ লক্ষ শুনানি বাকি ছিল। গত কয়েক দিনে সেই বিপুল কাজ কীভাবে শেষ হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
*_"ভোটাধিকার নাগরিকের *মৌলিক অধিকার। কোনোভাবেই যেন বৈধ ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।" — সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ।_*
জেলাভিত্তিক বাদের তালিকা: কোথায় কোপ বেশি?
সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজকের শুনানি শেষে যে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তৈরি হচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে:
*উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা* : এই দুই জেলায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা।
*শহরাঞ্চল* : কলকাতা ও হাওড়া শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫% থেকে ৭% নাম অসংগতিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
*সীমান্তবর্তী এলাকা* : মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতেও নথিপত্র নিয়ে কড়াকড়ি হওয়ায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়তে পারে।
*আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি কি তবে ‘বিস্ফোরণ’?*
আজকের শুনানি শেষ হওয়ার পর তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের মূল সার্ভারে আপলোড করা হবে। *আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List)।* সেই তালিকাই ঠিক করে দেবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কারা ভোট দিতে পারবেন আর কারা অপাংক্তেয় হয়ে পড়বেন।
*আপনার এখন কী করণীয়?*
আজ রাত ৮টা পর্যন্ত বিএলও (BLO) পোর্টাল বা সরকারি অ্যাপ খোলা থাকার কথা। যদি আপনার শুনানি হয়ে থাকে, তবে আজই নিজের স্ট্যাটাস অনলাইন চেক করে নিন।
ভোটার পোর্টালে গিয়ে নিজের EPIC নম্বর দিয়ে দেখুন আপনার নাম ‘Deleted’ বা ‘Under Review’ দেখাচ্ছে কি না।
★আজকের পর আর কোনো সংশোধনের সুযোগ নেই। বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এটিই সম্ভবত সবথেকে বড় 'অপারেশন ক্লিন-আপ'।
*যোগ্য ভোটাররা কি তালিকায় ফিরবেন, নাকি রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে বলি হবেন সাধারণ মানুষ? উত্তর মিলবে ঠিক এক সপ্তাহ পর।*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন