Top News

ভোটের আগে আবারো চর্চায় আরজি কর

রাজ্যে যখন নির্বাচনী উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই বড়সড় চমক দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলায় দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন প্রকল্প, কেনাকাটা ও পরিষেবা সংক্রান্ত টেন্ডারে বিপুল অঙ্কের আর্থিক কারচুপি হয়েছে।



সূত্রের খবর, চার্জশিটে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার নাম উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং ভুয়ো বিলের মাধ্যমে টাকা সরানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হাসপাতালের উন্নয়ন ও পরিকাঠামোর নামে কোটি কোটি টাকা ঘুরপথে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এই টাকার একটা বড় অংশ বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে বলে সন্দেহ। 

উল্লেখ্য, আর জি কর মামলায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন আরজি করের বিতর্কিত নন মেডিক্যাল ডেপুটি সুপার আখতার আলি যা সম্পূর্ণ মামলার দিক ঘুরিয়ে দেয়। এবং আবারো সেই আখতার আলির নাম যা আবারো মামলার দিক ঘুরিয়ে দেয়। এবার চার্জশিটে অন্যতম নাম এই আখতার আলি নিজেই। এছাড়াও ইডি-র চার্জশিটে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও নাম রয়েছে বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার নামও। বর্তমানে ওই তিনজনই জেলে। 

দু’টি মামলারই প্রথমে সমানতালে তদন্ত চালিয়েছে সিবিআই। এরপর তদন্তভার আসে ইডির হাতে। ইডি তদন্তে জানতে পারে, সন্দীপ ঘোষের সময়কালে বিভিন্ন টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি হাসপাতালের ভিতরে বেআইনি পার্কিং, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তখনই নাম উঠে আসে বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার। তাঁদেরও নিয়ম বহির্ভূতভাবে সন্দীপ ঘোষ টেন্ডার পাইয়ে দিতেন বলে অভিযোগ। আর এর পরই তারা গ্রেফতার হন। 

চার্জশিট জমা পড়ার সময় নিয়ে বর্তমানে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটের মুখে একদল এর দাবি চার্জশিট জমা পরা ও তদন্ত স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া, আইন আইনের পথে চলবে, এতে রাজনীতির রং লাগানো ঠিক নয়। অপরদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই মামলা শাসক দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানার জন্যই এখন সামনে আনা হয়েছে।

ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। এই চার্জশিট ‘প্রথম ধাপ’ মাত্র। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে। চার্জশিট জমা পড়ার পরই শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ। আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই নজরে। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন