শরিফ ওসমান হাদির বিচার চেয়ে 'যমুনা' অভিযানের ডাক দেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের উপরে গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করল মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তরফে তড়িঘড়ি জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে।
সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনও ধরনের গুলি ছোড়েনি।' তদারকি সরকারের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফেও পাল্টা বিবৃতি জারি করে গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন 'যমুনা'র প্রবেশমুখে অবস্থান নেয় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। এদিন বিকেল তিনটে ৫০ মিনিট নাগাদ ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার উদ্দেশে রওনা করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীদের থামাতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। পরে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরাও পুলিশের দিকে বোতল, ইট নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পাশাপাশি পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আল জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়াত খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সমাজমাধ্যমেও তদারকি সরকারের 'ট্রিগার হ্যাপি' পুলিশের সমালোচনা করেন অনেকে। পুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা সন্ধে থেকেই শাহবাগে অবস্থানে বসেন। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। অবস্থান মঞ্চ থেকে ইউনূস সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। তার পরেই তড়িঘড়ি গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে বিবৃতি তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন