Bidhannagar-এ উদ্ধার ৯টি সিম বক্স, আড়াই হাজার সিমকার্ড, গ্রেফতার এক
সাধারণ আবাসিক ফ্ল্যাটের আড়ালে চলছিল অত্যাধুনিক বেআইনি টেলিকম অপারেশন। আন্তর্জাতিক কলকে স্থানীয় কল হিসেবে রূপান্তর করে ভারতীয় নেটওয়ার্কে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ডিজিটাল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযান চালায় Bidhannagar Police Commissionerate-এর গোয়েন্দা বিভাগ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাতিয়ারার একটি আবাসনের পাঁচতলার ৫বি নম্বর ফ্ল্যাটে হানা দেন আধিকারিকরা। আর সেখান থেকেই ফাঁস হয় একটি বেআইনি সিম বক্স চক্রের কার্যকলাপ।
কীভাবে চলছিল এই কারবার?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাট থেকে বিদেশ থেকে আসা ভিওআইপি (VoIP) কলকে সিম বক্সের মাধ্যমে স্থানীয় বা ডোমেস্টিক কলে রূপান্তরিত করা হতো। এরপর সেই কল সরাসরি ভারতীয় নেটওয়ার্কে পাঠানো হত।
এই পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ব্যবস্থাকে এড়িয়ে গিয়ে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি করা হচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
হাতেনাতে ধরা অভিযুক্ত
অভিযান চলাকালীন ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে অভিযুক্ত আবির শেখ ওরফে মনিরুল ইসলাম সাজিবকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সক্রিয় অবস্থায় একাধিক সিম বক্স ডিভাইস পরিচালনা করছিলেন। প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও সূত্রের খবর।
কী কী উদ্ধার হলো?
পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে—
- ৯টি সিম বক্স মেশিন
- ২৫০০-র বেশি সক্রিয় সিমকার্ড
- একাধিক কিপ্যাড ফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস
- ভিওআইপি রাউটিং ও জিএসএম টার্মিনেশনের সরঞ্জাম
- রাউটার, তার, পাওয়ার ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ
আন্তর্জাতিক যোগের সন্দেহ
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের পিছনে বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। আর্থিক লেনদেন, সিম সংগ্রহের উৎস এবং অন্যান্য সদস্যদের খোঁজে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন,
“এই ধরনের বেআইনি সিম বক্স অপারেশন শুধু রাজস্ব ক্ষতিই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষেও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।” পুলিশের মতে, এই চক্রের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপ ও বেআইনি যোগাযোগ সহজ হয়ে উঠছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন