Top News

ডাবল সুপার ওভারের নাটকে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

 


চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের সাক্ষী থাকল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বুধবার নাটকীয় ডাবল সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ডি-তে সুপার এইটে ওঠার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল এইডেন মারক্রামের দল।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচটি আফগানিস্তানের কাছে ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব ক্রিকেটে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত আফগানিস্তান শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছে। টস জিতে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরুতেই প্রোটিয়া অধিনায়ককে ফিরিয়ে দিয়ে বড় ধাক্কা দেন ফজলহক ফারুকি। তবে কুইন্টন ডি’কক ও রায়ান রিকেলটনের জুটিতে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ বলে ১১৪ রান যোগ করেন তাঁরা। দু’জনেই হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

ঠিক তখনই ম্যাচে ফেরান আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। একই ওভারে দুই বলের ব্যবধানে ডি’কক ও রিকেলটনকে আউট করেন তিনি। পরে আজমাতুল্লা ওমরজাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত ছন্দে শুরু করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র চার ওভারে আফগানিস্তান তুলে নেয় ৫০ রান। তবে ইনিংসের মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় দলটি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। আফগানিস্তান তোলে ১২ রান। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

প্রথম সুপার ওভারে আফগানিস্তান করে ১৭ রান। ফজলহক ফারুকির শেষ বলের ছক্কায় সমতা ফেরে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও ১৭ রান তোলে, ফলে সুপার ওভারও টাই হয়। এরপর শুরু হয় দ্বিতীয় সুপার ওভার। দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে ২৩ রান তোলে। জবাবে কেশব মহারাজ প্রথম দুই বল ডট দেন এবং মহম্মদ নবির উইকেট তুলে নেন। তবু গুরবাজ টানা তিন বলে তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল পাঁচ রান, কিন্তু চাপ সামলাতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তাতেই ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দারুণ লড়াই, সাহসী ক্রিকেট ও শেষ পর্যন্ত নাটক—সব মিলিয়ে এই ম্যাচটি চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় হয়ে থাকল। তবে পরপর দুই ম্যাচে হার আফগানিস্তানের সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনাকে কঠিন করে দিল, আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৌঁছে দিল সুবিধাজনক অবস্থানে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন