টয় ট্রেনের ১৪৩ বছরের ইতিহাস বদলালো! 🚂 কে এই পাহাড়িকন্যা সরিতা?
পাহাড়ের বুক চিরে কু ঝিকঝিক শব্দে এগিয়ে চলা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) বা টয় ট্রেন কেবল একটি পরিবহন মাধ্যম নয়, এটি বিশ্বের কাছে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক ঐতিহ্য। ১৮৮১ সালে শুরু হওয়া এই রেল পরিষেবা ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মর্যাদা পায়। কিন্তু বিগত ১৪৩ বছরে এই ট্রেনের ইতিহাসের পাতায় যা কখনো ঘটেনি, ২০২৪-এর শেষে এসে তাই করে দেখালেন এক পাহাড়ি কন্যা। দীর্ঘ দু'বছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন সরিতা ইয়োলমো (Sarita Yolmo)। টয় ট্রেনের প্রথম মহিলা কালেক্টর ক্লার্ক (Collector Clerk) হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি।
কে এই সরিতা ইয়োলমো?
দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ব্লকের বাসিন্দা সরিতা ইয়োলমো ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ের এই ঐতিহ্যকে ভালোবাসতেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (NFR) কাটিহার ডিভিশনের অধীনে তিনি এই অভাবনীয় দায়িত্ব পেয়েছেন। ডিএইচআর-এর নীল রঙের ট্রেনের সাথে মিলিয়ে নীল ইউনিফর্মে যখন তিনি টিকিট চেক করতে বের হন, তখন পর্যটকদের চোখে দেখা যায় বিস্ময় এবং শ্রদ্ধা।
কাজের চ্যালেঞ্জ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
টয় ট্রেনে কাজ করা সাধারণ ট্রেনের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখানে শুধু টিকিট চেক করাই কাজ নয়, বরং বিদেশি পর্যটকদের সাথে কথা বলা, তাদের ট্রেনের রুট এবং ইতিহাস জানানো—সবটাই সামলাতে হয়।
লিঙ্গ বৈষম্যের অবসান: এর আগে টয় ট্রেনের বিভিন্ন বিভাগে মহিলারা কাজ করলেও, ফ্রন্টলাইন সার্ভিসে অর্থাৎ যাত্রীদের মুখোমুখি হয়ে টিকিট কালেকশনের মতো বড় দায়িত্বে কোনো মহিলা ছিলেন না।
পাহাড়ি নারীদের অনুপ্রেরণা: সরিতার এই সাফল্য কেবল একটি সরকারি চাকরি নয়, এটি পাহাড়ের সেই সমস্ত মেয়েদের জন্য বার্তা যারা প্রথা ভেঙে নতুন কিছু করতে চায়।
রেলওয়ের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জনসংযোগ আধিকারিকদের মতে, সরিতার এই নিয়োগ ভারতীয় রেলের এক বিশেষ মাইলফলক। তারা চেয়েছিলেন এমন একজনকে, যিনি স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত এবং পর্যটকদের সাথে চমৎকার ব্যবহার করতে পারবেন। সরিতা ইয়োলমো এই সবকটি মাপকাঠিতেই সফল হয়েছেন। বর্তমানে তাকে এনজেপি (NJP)-দার্জিলিং রুট এবং দার্জিলিং-ঘুম জয়রাইড সার্ভিসে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।
পর্যটকদের আকর্ষণ ও সরিতার প্রতিক্রিয়া
দেশ-বিদেশের পর্যটকরা যখন সরিতাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখেন, তখন অনেকেই তার সাথে ছবি তোলেন বা অভিনন্দন জানান। সরিতা ইয়োলমো এই সাফল্যে আপ্লুত হয়ে জানিয়েছেন, "আমি কখনো ভাবিনি যে আমি ইতিহাসের অংশ হয়ে যাব। ট্রেনের প্রতিটি যাত্রী যখন আমাকে উৎসাহ দেন, তখন আমার দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। আমি চাই আমার দেখে পাহাড়ের আরও মেয়েরা রেলওয়েতে কাজ করতে আগ্রহী হোক।"
উপসংহার:
ডিএইচআর (DHR) এখন কেবল প্রাচীন বাষ্পীয় ইঞ্জিনের জন্য নয়, সরিতার মতো আধুনিক ও সাহসী নারীদের কাজের জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হবে। পাহাড়ের কুয়াশা মোড়া স্টেশনে যখন সরিতার গম্ভীর অথচ নম্র কণ্ঠস্বর শোনা যায়, তখন বোঝা যায় যে পরিবর্তন এসেছে এবং সেই পরিবর্তন অত্যন্ত ইতিবাচক।
"তথ্য সূত্র: স্থানীয় পৌরনিগম ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে দপ্তর।"
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন