১২ বছরের ছাত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে ওড়িশা, কাঠগড়ায় শিক্ষক থেকে পিওন
স্কুল মানে কি শুধুই পড়াশোনা? না কি বিশ্বাস, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন? যেখানে অভিভাবকেরা সন্তানকে রেখে নিশ্চিন্ত হন, সেই স্কুলেই যদি লুকিয়ে থাকে আতঙ্ক—তবে প্রশ্ন উঠবে না কেন?
ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলা থেকে উঠে আসা এক ভয়াবহ অভিযোগ আজ সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল। ওলাভার অক্সফোর্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-এর সপ্তম শ্রেণির এক ১২ বছরের ছাত্রীর অভিযোগ, দিনের পর দিন স্কুলের ভেতরেই তাকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অভিযুক্ত চারজন শিক্ষক ও এক পিওন। এমনকি এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, তিনি নাকি এই ঘটনার সহায়ক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ জানুয়ারি বাড়িতে কান্নাকাটি করতে দেখা যায় ওই ছাত্রীকে। পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা। কখনও জোরজবরদস্তি, কখনও হুমকি দিয়ে তাকে চুপ করিয়ে রাখা হত বলে অভিযোগ। একমাসেরও বেশি সময় পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ছাত্রীর মা।
রবিবার পুলিশ জানায়, পাঁচজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনের আওতায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তে নেমেছে এসটিআই দল। স্কুলে গিয়ে ফরেন্সিক টিম নমুনা সংগ্রহ করেছে। নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
কিন্তু এখানেই কি শেষ?
প্রশ্ন উঠছে, একটি ১২ বছরের মেয়ে দিনের পর দিন এই নরক যন্ত্রণা সহ্য করল, অথচ কেউ টের পেল না? সহকর্মীরা কিছুই টের পাননি? না কি টের পেয়েও চুপ ছিলেন?
আরও বড় প্রশ্ন, অভিযোগ জানাতে এক মাস কেন লাগলো? ভয়? সামাজিক লজ্জা? নাকি আমাদের সেই চেনা মানসিকতা- “মেয়ের নাম জড়াবে, মেয়ের নামে কলঙ্ক লাগবে, সমাজে মাথা নত হবে” কোনটা?
এই ঘটনা শুধু পাঁচজন অভিযুক্তের নয়। এটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামোর পরীক্ষা। স্কুলে সিসিটিভি কোথায় ছিল? থাকলেও তাকি নিয়মিত মনিটর করা হত? মনিটর করা হলে এতবড় ঘটনা লুকিয়ে গেলো কেনো? স্কুলও কি তবে আর নিরাপদ নয়! কোন ভরসায় অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবে?
শিক্ষক মানে তো অভিভাবকের পরেই সবচেয়ে ভরসার জায়গা। সেই মানুষগুলোর বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তখন এটা শুধু মাত্র আর শিক্ষকের নয় গোটা সমাজের লজ্জা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন