‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’—এই অদম্য প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হয়ে বাঁচা-মরার ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে ভারত। সমীকরণ ছিল একেবারে সরল—ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত, আর পরাজয় মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। সেই চাপের ম্যাচেই অসাধারণ পারফরম্যান্সে ৫ উইকেটের জয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল টিম ইন্ডিয়া।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াকু একটি সংগ্রহ গড়ে তোলে। শুরুতে ভারতীয় বোলাররা কিছুটা চাপে পড়লেও মাঝের ওভারে ঘুরে দাঁড়ান তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বোলাররা। ফলে প্রতিপক্ষ বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি, বরং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লক্ষ্য দাঁড় করায়।
রান তাড়া করতে নেমে ভারতও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন সঞ্জু স্যামসন। কেরলের এই ডানহাতি ব্যাটার শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন।
মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন স্যামসন। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও শক্তিশালী শটের সমাহার। ইনিংসটি শুধু রানসংখ্যার দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল নির্ণায়ক।
তার সঙ্গে মাঝের সারির ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ভারত। শেষ দিকে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় তারা এবং ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
গ্যলারিতে উপস্থিত ৬৫ হাজার ৩৫৪ জন দর্শক উপভোগ করেন এক রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। স্যামসনের এই ইনিংস দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল ভারত। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন