খাস কলকাতায় সম্পর্কের জেরে নৃশংস খুন। পরিবারের ‘সম্মান’ বাঁচাতে নিজের বোনকেই শ্বাসরোধ করে খুন। গ্রেপ্তার দাদা সঞ্জিৎ শাহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নারকেলডাঙা এলাকায়।
গত জানুয়ারি মাসে নারকেলডাঙার শিবতলা লেনের একটি বাড়ি থেকে পুষ্পার অচৈতন্য দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, নাক-মুখ চেপে এবং গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক হয় অভিযুক্ত সঞ্জিৎ শাহ। মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে সে প্রথমে মুম্বইয়ে পালিয়ে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করে। পরে সেখান থেকে বিহারে চলে যায়।
প্রায় দু’মাস পর, শুক্রবার রাতে নারকেলডাঙা এলাকায় ফেরার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় সঞ্জিৎ স্বীকার করেছে, বোনের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে ‘পরিবারের সম্মান রক্ষার’ জন্যই এই খুন করেছে।
শনিবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে ধৃতকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, অভিযুক্ত একাধিক জায়গায় পালিয়ে বেরিয়েছে, তাই এতদিন সে আর কি কি করেছে তা নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তাই এখনো তদন্ত শেষ হয় নি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে একটা বিষয় আমাদের সকলকে ভাবতে হচ্ছে যে —একটা সম্পর্ক মেনে নিতে না পারার কারণে যদি জীবনের শেষটাই কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সম্মান কি সত্যিই মানুষের প্রাণের থেকেও বড়, নাকি আমরা এখনও সেই মানসিকতা থেকেই বেরোতে পারিনি? যেখানে সম্মানের চেয়ে মানুষ বড়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন