ভোটের আগে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, তার মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক। ‘ভয় দেখাতে এলে হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন’—এই বক্তব্যকে ঘিরেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন।
বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির জনসভা থেকে মা-বোনেদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভোটের দিন বুথ পাহারা দিতে হবে, যাতে বাইরে থেকে কেউ এসে ছাপ্পা দিতে না পারে। কেউ ভয় দেখাতে এলে ঘরে যা আছে, তাই নিয়েই প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান তিনি।
এই মন্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আশঙ্কা, এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তাই দ্রুত ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে রাজ্যের সিইও-র দফতরের কাছে।
একই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রক্রিয়া, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং রাজ্যের প্রশাসনিক পদে একাধিক বদলি নিয়েও বিজেপি ও কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বদলি করা হচ্ছে, ফলে কোনও ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে, ভোটের আগেই রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে হিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে। কিন্তু তাতেও অশান্তি থামছে না। বাঘাযতীনে এক তৃণমূল কর্মী খুন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে বিজেপির প্রচার ঘিরে সংঘর্ষ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওই ঘটনায় ৮ জন পুলিশকর্মী আহত হন।
ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থতার অভিযোগে বাসন্তী থানার আইসি অভিজিৎ পালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর প্রবীর ঘোষকে।
ভোটের আগে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক ভাষণ কি আরও সংযত হওয়া উচিত নয়? সাধারণ মানুষকে আত্মরক্ষার নামে এমন বার্তা দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? আর এই ধরনের মন্তব্য কি অজান্তেই সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালছে না? নাকি অশান্তি ঘটানোর জন্যে ইচ্ছা করেই এমন মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন