Top News

কেরলে সমস্যা হল না, বাংলাতেই কেন? ভোটার তালিকা নিয়ে শাহর সরাসরি প্রশ্ন—তবে আসল সমস্যাটা কোথায়?

ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে এত বিতর্ক কেন শুধুই বাংলায়? গোটা দেশে যখন একই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গেই কেন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দরকার হল? এই প্রশ্নই এবার সরাসরি ছুঁড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।



শনিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করতে গিয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানান শাহ। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ু, কেরল-সহ একাধিক অ-বিজেপি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তাহলে শুধুমাত্র বাংলাতেই কেন জটিলতা তৈরি হল?

এদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ—এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলার মানুষের অধিকারের ওপর আঘাত। এই ইস্যুতেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। পরবর্তীতে আদালত ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেয়।

অমিত শাহর পাল্টা দাবি, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের নিচুতলার আধিকারিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেননি বলেই এত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ সামনে এসেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদন ঝুলে ছিল ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ খাতে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৭ লক্ষ নাম যাচাই করা হয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামই বেশি বাদ পড়ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া অবস্থান নেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে শুধু ভোটার তালিকা থেকেই নয়, দেশ থেকেও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অনীহার কারণেই সেই কাজ আটকে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—ভোটার তালিকা যাচাই কি সত্যিই স্বচ্ছতার জন্য, নাকি তা রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠছে? সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কি যথেষ্ট সুরক্ষিত? আর এই টানাপোড়েনের মাঝে সত্যিটা কোথায়—রাজনীতি, নাকি বাস্তব সমস্যা?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন