বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে এবার সরাসরি পকেটে টান পড়তে চলেছে বিমানযাত্রীদের। এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ আজ তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটের বিমানেই অতিরিক্ত 'ফুয়েল সারচার্জ' আরোপ করার ঘোষণা করেছে। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে বিমান জ্বালানির (ATF) দাম অস্বাভাবিক হারে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শুরু থেকেই বিমান জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ হয়। ফলে মজুত জ্বালানির দাম দ্রুত আকাশছোঁয়া হচ্ছে। একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানির পেছনে। এছাড়া দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো মেট্রো শহরগুলোতে উচ্চহারে এক্সাইজ ডিউটি ও ভ্যাট (VAT) থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই জ্বালানি সংকট এড়াতে ও বাড়তি মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে সারচার্চ জারি করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।
ধাপে ধাপে বাড়বে সারচার্জ
এই বাড়তি জ্বালানি সারচার্জ মূলত তিনটি ধাপে কার্যকর করা হবে।
প্রথম ধাপ (১২ মার্চ ২০২৬ থেকে নতুন বুকিংয়ে):
ভারতের অভ্যন্তরীণ উড়ান: ₹৩৯৯
সার্ক দেশগুলির রুট: ₹৩৯৯
পশ্চিম এশিয়া/মধ্যপ্রাচ্য: ১০ ডলার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: ৬০ ডলার
আফ্রিকা: ৯০ ডলার
এছাড়া সিঙ্গাপুর গামী বা সেখান থেকে আসা উড়ানের ক্ষেত্রেও প্রথমবার জ্বালানি সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয় ধাপ (১৮ মার্চ ২০২৬ থেকে নতুন বুকিংয়ে):
ইউরোপ রুট: ১২৫ ডলার
উত্তর আমেরিকা: ২০০ ডলার
অস্ট্রেলিয়া: ২০০ ডলার
তৃতীয় ধাপ:
পরবর্তী সময়ে দূরপ্রাচ্যের বাজার যেমন হংকং, জাপান, এবং সাউথ কোরিয়ার ক্ষেত্রে এই সারচার্জ চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে করা বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সারচার্জ প্রযোজ্য হবে না, যদি না যাত্রীরা তারিখ বা ভ্রমণপথ পরিবর্তন করেন।
সংস্থার দাবি, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হওয়ায় বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সারচার্জ না বাড়ালে কিছু উড়ান পরিচালনা করা সম্ভব নাও হতে পারে।
তবে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এর ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও ফ্লাইটে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন