কলকাতায় মোদীর সভার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা: সংঘর্ষে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক
গতকাল (১৪ মার্চ ২০২৬), কলকাতার [গিরিশ পার্ক]
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরের রাজনৈতিক পরিবেশ হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সভার আগে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় Trinamool Congress এবং Bharatiya Janata Party সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও গুরুতর আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক সভা বা নির্বাচন ঘিরে এ ধরনের উত্তেজনা নতুন নয়, তবে শান্তি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত সভাকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন চাইছে যাতে সভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আর না ঘটে। এলাকা রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার আগে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাঁধে।
ঘটনার মূল বিষয়গুলি নিচে দেওয়া হলো:
• ইট বৃষ্টি ও হামলা:
ব্রিগেডের সমাবেশে যাওয়ার পথে বিজেপি সমর্থকদের বাস ও মিছিল লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট ও পাথর ছোড়া হয়। পাল্টাপাল্টি ইটের আঘাতে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
• আহত:
সংঘর্ষে বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়াও ইটের আঘাতে বউবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করও কাঁধে চোট পান।
• অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ:
বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সমর্থকরাই প্রথমে উস্কানি দিয়েছে এবং তৃণমূল মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
• পুলিশি তৎপরতা:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে।
সংক্ষেপে, মোদীর ব্রিগেড সভার আগে কলকাতায় ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার চিত্র সামনে তুলে ধরেছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার উপর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন