রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নৌবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হচ্ছে। বাসটি নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে ডুবে ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনেকে ঘাটে ভিড় করছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো হতাহত ও নিখোঁজের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন