Top News

আবার আরজি কর—এবার স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়েই মৃত্যু! আর কতবার একই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ঘিরে আবারো সেই অব্যবস্থার অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্য। লিফট দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার এক শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। পরিবারের দাবি—স্ট্রেচার না পাওয়ায় অসুস্থ অবস্থায় হাঁটতে গিয়েই প্রাণ হারালেন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ়।

RG Kar Trauma Centre 


পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা নিয়ে ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, শৌচালয়ে যাওয়ার সময় সমস্যার শুরু হয়। অভিযোগ, ট্রমা কেয়ারের কাছে কোনও শৌচালয় না থাকায় রোগীকে বাইরে বা দোতলায় নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেই সময় রোগীকে কোনো স্ট্রেচার দেওয়া হয়নি। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই অসুস্থ অবস্থাতে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁকে।

পরিজনদের দাবি, সেই হাঁটার ধকলই সহ্য করতে পারেননি বিশ্বজিৎ। হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন, পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁদের আক্ষেপ—“স্ট্রেচার বা কাছাকাছি শৌচালয় থাকলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন।”

এই ঘটনা শুধু এখানেই শেষ নয়। এর মাত্র কয়েকদিন আগেই একই ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফটে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। সেখানেও শৌচালয় ব্যবহার করতে গিয়ে লিফ্‌টে উঠতে হয়, আর সেই লিফ্‌টেই ঘটে বিপর্যয়। পরপর দুই ঘটনায় একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে—হাসপাতালের প্রাথমিক পরিকাঠামো কি সত্যিই এতটাই দুর্বল? 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, ট্রমা কেয়ারে শৌচালয় রয়েছে। তবুও কেন রোগীকে বাইরে যেতে বলা হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের সুপার স্বীকার করেছেন, যে তাদের আরও শৌচালয়ের প্রয়োজন আছে এবং তা নিয়েই বর্তমানে আলোচনা চলছে।

কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই—

একটি সরকারি বড় হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে যদি স্ট্রেচার বা শৌচালয়ের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত না হয়, তাহলে রোগীরা ভরসা করবে কোথায়?

কেন বারবার একই জায়গা থেকে এমন অভিযোগ উঠে আসছে?

দুর্ঘটনার পর কি তবে তদন্ত, আশ্বাস, ভরসা—সবই শুধু কাগজে-কলমে আটকে থাকে? সবই শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি!

আর সবচেয়ে বড় কথা, চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ যদি হাসপাতালের মধ্যেই নিরাপদ না হন, তাহলে তার দায় নেবে কে?

এই ঘটনাগুলো কি শুধুই দুর্ভাগ্য? নাকি এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলা, যার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন