স্তব্দ টলিউড। ক্যামেরা চলছে না, লাইট জ্বলছে না—টলিউডে যেন হঠাৎই নেমে এসেছে এক অদ্ভুত নীরবতা। আর সেই নীরবতার কেন্দ্রে এক নাম—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়।
![]() |
| রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় |
তরুণ এই অভিনেতার অকাল মৃত্যু শুধু শোক নয়, বড় এক প্রশ্নও তুলে দিয়েছে—শুটিং ফ্লোর কি সত্যিই নিরাপদ?
রবিবার বিকেলে আর্টিস্টস ফোরামের ডাকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জড়ো হন ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচিত মুখ। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে আবির চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইশা সাহা, দেবলীনা দত্ত, জীতু কামাল—প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন এই জরুরি বৈঠকে। আলোচনার শেষে সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি।
ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কাজ শুরু হবে না।
অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও একই কথা বলেন। তাঁর মতে, রাহুলের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি গোটা ইন্ডাস্ট্রির কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বহুদিনের ভেদাভেদ ভুলে আজ সবাই এক জায়গায়—ন্যায় বিচার আর নিরাপত্তার দাবিতে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুটিং ফ্লোরে থাকা প্রত্যেকটা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তারকা নয়, টেকনিশিয়ান, ক্যামেরাম্যান, এমনকী যিনি খাবার পৌঁছে দেন—সবাই এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ, আর সবার জীবনই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর টলিউডে কাজ থমকে গেছে ঠিকই, কিন্তু একটাই আশা—এই থামা যেন বদলের সূচনা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন