যে বয়সে ‘বাবা’ শব্দটাই সবচেয়ে নিরাপদ, সেই বয়সেই বাবার হাতে শেষ হলো দুই ছোট্ট জীবনের গল্প। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়েও এমন অমানবিকতা—যা শুনলে বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায় এক বাবার বিরুদ্ধে নিজের চার বছরের যমজ কন্যাকে খুন করার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় যমজ কন্যা—গীতাংশি ও গীতান্বিকা। কিন্তু অভিযোগ, কন্যাসন্তান হওয়ায় তিনি কখনও সন্তুষ্ট ছিলেন না। পুত্রসন্তানের ইচ্ছা ঘিরে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল।
গত শুক্রবার সেই অশান্তি চরমে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাগের মাথায় তিনি জোর করে দুই শিশুকে কীটনাশক খাইয়ে দেন এবং পরে তাদের কুয়োয় ফেলে দেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই শিশুর।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই করে তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হয় দুই শিশুর দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে—এখনও কি সমাজের একাংশে কন্যাসন্তান অবাঞ্ছিত? আজ উন্নয়নের এই পর্যায় পৌঁছেও আর এই মানসিকতার পরিবর্তন কবে হবে?
এই নির্মম ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়, আর ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন