প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত বেঙ্গালুরু শহর। বুধবার সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির জেরে শহরের বোওরিং ও লেডি কার্জন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর কাছে একটি দেওয়াল ধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
জানা গিয়েছে, হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ভবনের সীমানা প্রাচীর আচমকাই ভেঙে পড়ে রাস্তার ধারের দোকানদার ও পথচারীদের ওপর। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনার পরই উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রশাসন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। তিনি মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার জানান, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শহরজুড়ে মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে ভেগা সিটি মলে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি মৃতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন।
অন্য একটি ঘটনায়, জেপি নগর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির সংস্পর্শে এসে ৩০-৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাস্তার ধারের ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন কেরলের বাসিন্দা, কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হঠাৎ নামা এই বৃষ্টি গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও শহরের জনজীবন কার্যত স্তব্ধ করে দিয়েছে। রিচমন্ড টাউন ও শান্তিনগর-সহ একাধিক এলাকায় কোমরসমান জল জমেছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এমনকি বিধান সৌধের কিছু অংশেও জল ঢুকে পড়েছে।
এছাড়াও মল্লেশ্বরম, শান্তিনগর ও শেশাদ্রিপুরম এলাকায় একাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। প্রায় ৫০টি জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে শহর প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাস্তা পরিষ্কার ও যান নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
বিরোধী দলনেতা আর. অশোক এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষ—শিশু, রাস্তার ধারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা যারা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিলেন—তাদের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক চরম অবহেলার ফল। তাঁর কথায়, “এটি একপ্রকার সরকার-পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি বিপর্যয়।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, দুর্বল পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার অবহেলার বলি হয়ে আর কত প্রাণ যেতে হবে? ‘ব্র্যান্ড বেঙ্গালুরু’ নিয়ে বড় বড় দাবি করা হলেও, শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের ভেঙে পড়া দেওয়াল এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা সামনে আনছে। সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য এই সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি. ওয়াই. বিজয়েন্দ্র কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের কাছে এই ঘটনার দায় স্বীকার করার দাবি জানান। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও মৃতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শহরের জলাবদ্ধতা-প্রবণ এলাকা ও জরাজীর্ণ নির্মাণগুলির পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে প্রশাসন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন