বাংলায় ভোটের আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি—যে ত্রিপুরাকে মডেল হিসেবে দেখিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি, সেই ত্রিপুরাতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি।
![]() |
ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC) নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবি গেরুয়া শিবিরের। ২৮ আসনের এই নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে মাত্র ৫টি আসনে। অন্যদিকে, একাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেববর্মার তিপ্রা মোথা—এগিয়ে ২১টি আসনে। বাকি আসনগুলিতে লড়াইয়ে রয়েছে আইপিএফটি ও নির্দল প্রার্থীরা। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস—প্রায় অদৃশ্য।
এই ফলাফল শুধু একটা নির্বাচনের সংখ্যা নয়, বরং একটা স্পষ্ট বার্তা। কারণ, এই ত্রিপুরাকেই বাংলার ভোটে “মডেল” হিসেবে তুলে ধরছিল বিজেপি। এখন সেই মডেলেই ধাক্কা!
কেন এমন ফল?
মূল কারণ—জোট ভাঙন। আগে আইপিএফটি ও তিপ্রা মোথার সঙ্গে জোটে ছিল বিজেপি। কিন্তু আসন সমঝোতা নিয়ে মতভেদ তৈরি হওয়ায় সেই জোট ভেঙে যায়। এবার একাই লড়াই করে বিজেপি, আর সেখানেই বিপত্তি।
ভোটের দিনও ছিল উত্তেজনা। গুলি, বোমাবাজি, সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে অশান্ত পরিবেশে ভোট হয়েছে। তিপ্রা মোথা ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের খবর আসে। ছাপ্পা ভোটের অভিযোগও ওঠে। তবুও ৭০% এর বেশি ভোট পড়ে।
গণনা শুরু হতেই পরিষ্কার হয়ে যায় চিত্র—তিপ্রা মোথার ঝড়। একের পর এক আসনে এগিয়ে গিয়ে তারা প্রায় একক আধিপত্য গড়ে তোলে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফল বাংলার ভোটের আগে বড় ইঙ্গিত। ত্রিপুরায় যেখানে শক্তি দেখাতে পারেনি বিজেপি, সেখানে বাংলায় তার প্রভাব পড়তে পারে—এমনটাই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—ত্রিপুরার এই ধাক্কা কি বাংলার ভোটে ঝড় তুলবে! নাকি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে গেরুয়া শিবির! সময়ই দেবে তার উত্তর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন