ছবি : ইন্টারনেট
কলকাতা, ২১ এপ্রিল: ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত উমর খালিদের জামিন বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা সংক্রান্ত মামলায় ৫ জানুয়ারির রায় বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।
অরবিন্দ কুমার ও এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, রিভিউ পিটিশন এবং সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে এমন কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। ফলে আবেদনটি খারিজ করা হয়। পাশাপাশি, খালিদের পক্ষ থেকে খোলা আদালতে শুনানির আবেদনও নাকচ করে দেয় আদালত এবং স্পষ্ট জানায় যে মৌখিক শুনানির প্রয়োজন নেই।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি একই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ২০২০ সালের দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এই মামলাটি বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর অধীনে দায়ের করা হয়। আদালত জানিয়েছিল, সমস্ত অভিযুক্তের অবস্থান এক নয়। এই যুক্তিতে পাঁচজনকে জামিন দেওয়া হলেও মূল অভিযুক্ত খালিদ ও ইমামের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। তবে আদালত এও জানায়, সুরক্ষিত সাক্ষীদের জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর বা এক বছর পর তাঁরা নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন।
অভিযোগের বিবরণ তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার প্রাথমিক প্রমাণ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে খালিদ ও ইমাম দাঙ্গার “পরিকল্পনা, সংগঠন এবং কৌশলগত নির্দেশনা”-য় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, উমার খালিদকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন, সেই সময় ভারত সফরে ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (NRC)-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের আবহে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এই দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয় এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলায় দিল্লী পুলিশ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১১ জন জামিন পেয়েছেন। আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে আপাতত উমর খালিদের জামিনের পথ আরও কঠিন হয়ে গেল, যদিও ভবিষ্যতে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় খোলা থাকছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন