প্রথম দফার বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। গত ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের নওদায় তৃণমূল প্রার্থী হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে যে 'গো ব্যাক' স্লোগান ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অত্যন্ত সতর্ক নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় সকাল ৯টার মধ্যেই যেখানে ১৮.৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছিল, এবার সেই হারকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। কালকের এই দফার ওপরই নির্ভর করছে নবান্নের দখল শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, কারণ হেভিওয়েট প্রার্থীদের সিংহভাগই এই দফার লড়াইয়ে শামিল।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামীকালকের এই মহাযুদ্ধে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ কোটি ৪৫ লক্ষেরও বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৬ লক্ষ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৬৯ লক্ষের কাছাকাছি। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের সংখ্যাও গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটারদের সুবিধার্থে এবং দ্রুত ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এই দফায় মোট ৩৮ হাজারেরও বেশি বুথ তৈরি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, প্রতিটি বুথেই ভিভিপ্যাট প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে ভোটাররা তাদের দেওয়া ভোট সঠিক জায়গায় পড়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেন। এছাড়াও বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বিশেষ যাতায়াত ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলিকে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে এবার কোনো রকম আপস করতে নারাজ কমিশন। মুর্শিদাবাদ ও আসানসোলের মতো এলাকায় গত দফার অশান্তির কথা মাথায় রেখে এবার রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৯০০ কোম্পানি মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি থাকবে ১৪৪ ধারা। অশান্তিপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং কলকাতার একাধিক স্পর্শকাতর বুথে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এছাড়াও কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি (QRT) মোতায়েন থাকছে যাতে কোনো বুথ থেকে গোলমালের খবর আসা মাত্রই বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারে। ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় রুট মার্চ সম্পন্ন করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার ওয়েবকাস্টিং-এর ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বুথে সরাসরি ওয়েবকাস্টিং চলবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সরাসরি দিল্লির নির্বাচন সদন এবং কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। বুথের ভেতরে কোনো বহিরাগত বা এজেন্টদের অবৈধ জমায়েত রুখতে প্রিসাইডিং অফিসারদের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভোটার কার্ড না থাকলেও আধার, প্যান বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো বিকল্প ১২টি নথির যেকোনো একটি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। কাল সকাল ৭টা থেকেই শুরু হবে গণতান্ত্রিক এই উৎসব, যা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এখন দেখার, কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ভোটদাতারা কতটা নির্বিঘ্নে নিজেদের রায় ইভিএম-এ বন্দি করতে পারেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন