Top News

নক্ষত্র পতন—৯২-এ চিরবিদায় আশা ভোসলে

ভারতীয় সঙ্গীতজগৎ আজ স্তব্ধ। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান গায়িকা আশা ভোসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২।

প্রয়াত আশা ভোসলে


শনিবার সন্ধ্যা থেকেই উৎকণ্ঠা ছড়ায় তাঁর অসুস্থতার খবরে। হঠাৎই শরীরে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। প্রথমে বিষয়টি গুরুতর মনে না হলেও, পরে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সময় তাঁর নাতনি জনাই ভোসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “ঠাকুরমা খুবই ক্লান্ত, ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। দয়া করে আমাদের গোপনীয়তা বজায় রাখুন।” সেই বার্তার পর থেকেই প্রার্থনায় ছিলেন অনুরাগীরা।

কিন্তু সব আশা ভেঙে দিয়ে রবিবার দুপুরে আসে দুঃসংবাদ। না ফেরার দেশে পাড়ি দেন সুরের এই জাদুকরী কণ্ঠ। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা দেশ।

প্রায় সাত দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে আশা ভোসলে গেয়েছেন হাজার হাজার গান। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি সহ বহু ভাষায় তাঁর গানের ছোঁয়া পৌঁছেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। চলচ্চিত্র, গজল, পপ, ভজন—প্রায় সব ধারাতেই তিনি সমান দক্ষ ছিলেন।

তাঁর গাওয়া ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’—আজও সমান জনপ্রিয়। শুধু বলিউড নয়, বাংলা গানের জগতেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর কণ্ঠে বাংলা আধুনিক গানও পেয়েছে আলাদা মাত্রা।

সম্মানের ঝুলিতেও ছিল একের পর এক সাফল্য। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মভূষণ, একাধিক জাতীয় পুরস্কার—সবই পেয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি মনোনয়নও তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে মুম্বইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।

তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তিনি শুধু একজন গায়িকা নন, তিনি এক অনুপ্রেরণা—যাঁর কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ছুঁয়ে গেছে।” তিনি আরও জানান, বাংলার প্রতি তাঁর বিশেষ টান ছিল এবং বাংলা গানেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও তাঁর অসুস্থতার সময় দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন এবং তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

শুধু পুরস্কার বা সাফল্য নয়, তাঁর গানের আবেগ, তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক জীবন্ত ইতিহাস।

আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর গাওয়া প্রতিটি সুর, প্রতিটি গান—চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের মনে। এক কিংবদন্তির অবসান হলেও, তাঁর সুর কখনও থামবে না। 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন