রাঘব চাড্ডার দলবদল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তিনি আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি সোমবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
রাঘব চাড্ডার দাবি,আম আদমি পার্টি এর অভ্যন্তরে এখন একটি ‘বিষাক্ত কর্মপরিবেশ’ তৈরি হয়েছে, যা তাঁর দল ছাড়ার প্রধান কারণ। তিনি জানান, একসময় যে দল আদর্শ ও স্বচ্ছতার কথা বলত, সেই দলের ভিতরের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বর্তমান পরিবেশে কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের ভিতরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সাংসদে কথা বলা বা নিজের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। চাড্ডার কথায়, দলের ভিতরে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ভিন্ন মতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তা দমন করার চেষ্টা করা হয়।
নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান,”রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে আমি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলাম। আমার সামনে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। আমি সেই পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দিই। আমি আমার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি।আমি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছিলাম। আমি আমার যৌবনের ১৫টি বছর উৎসর্গ করেছি, নিজের রক্ত, ঘাম আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে এই দলটিকে লালন-পালন করেছি। কিন্তু আজ এই দলটি আর আগের মতো নেই।”
তিনি আরও বলেন তাঁর সামনে তিনটি পথ খোলা ছিল: “প্রথমত, রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, এই দলে থেকে পরিস্থিতি ঠিক করার চেষ্টা করা, যা হয়নি। এবং তৃতীয়ত, নিজের শক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো মঞ্চে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করা। তাই, শুধু আমি নই, আরও ছয়জন সাংসদ এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন ভুল করতে পারে, দুজন ভুল করতে পারে, কিন্তু সাতজন ভুল করতে পারে না।”
তবে এই রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত কমে যায়—প্রথমে প্রায় ১০ লক্ষ এবং পরে তা বেড়ে প্রায় ২০ লক্ষে পৌঁছায়। একই সঙ্গে, তাঁর অতীতের বিজেপি-বিরোধী বক্তব্য ও ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, রাঘব চাড্ডার এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দলবদল নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিসরে অভ্যন্তরীণ দলীয় সংস্কৃতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন