অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অমিত বনশলের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED) জানায়, চান্ডেলের জামিনে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু সরকারি আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেননি, তাই প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর ৪৫ নম্বর ধারার কঠিন শর্তাবলি এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
গত ১৩ এপ্রিল অর্থপাচারের অভিযোগে বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, বিনেশ চান্ডেল 'প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড'-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ৩৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর সূত্র ধরেই এই মামলার তদন্ত শুরু করে ইডি।
ইডির দাবি অনুযায়ী, তদন্তে সংস্থার আর্থিক লেনদেনে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলি হলো:
হিসাব বহির্ভূত এবং ‘বেআইনি’ টাকা গ্রহণ।
ব্যবসায়িক ভিত্তিহীন অসুরক্ষিত ঋণ গ্রহণ।
ভুয়ো ইনভয়েস বা বিল তৈরি করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে টাকা লেনদেন।
দেশি ও আন্তর্জাতিক ‘হাওয়ালা’ চ্যানেলের মাধ্যমে নগদ টাকা আদান-প্রদান।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আই-প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড প্রায় ৫০ কোটি টাকার ‘প্রসেডস অফ ক্রাইম’ বা অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলার তদন্তে কলকাতার সল্টলেকে আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি, যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থাগলোর তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের এই জামিন বিনেশ চান্ডেল এবং তাঁর সংস্থার জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন