রান্নার গ্যাস বা পেট্রোল-ডিজেল নয়, এবার টান পড়বে আপনার অতি প্রয়োজনীয় পানীয় জলের বোতলে! ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলতে থাকা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের প্লাস্টিক শিল্পে।
কেন বাড়ছে দাম?
আপনার মনে হতেই পারে, যুদ্ধের সাথে প্লাস্টিকের সম্পর্ক কী? আসলে প্লাস্টিক তৈরির মূল উপাদানগুলি আসে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল থেকে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে, প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচামালের এই অগ্নিমূল্য প্লাস্টিক প্যাকেজিং সংস্থাগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছে।
টাকার দাম পড়ে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে পারে?
প্লাস্টিক মানেই শুধু বোতল নয়, আমাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যবহৃত প্রচুর জিনিসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে:
১. প্যাকেটজাত পানীয় জল: যে জলের বোতল আপনি ১০-২০ টাকায় কেনেন, তার দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।
২. FMCG পণ্য: বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবারের দাম বাড়তে পারে।
৩. ব্যক্তিগত পরিচর্যা: শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা তেলের বোতলের দামও আকাশছোঁয়া হওয়ার পথে।
৪. রঙের শিল্প: প্লাস্টিক কন্টেইনারে থাকা রঙের দামেও এর প্রভাব পড়বে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে যে, PET এবং পলিপ্রোপিলিন-এর মতো পলিমারগুলোর দাম প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলো আর পুরনো দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। ফলে এই বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতা অর্থাৎ আপনার ওপরই এসে পড়বে।
৫০ দিন পার হয়ে গেলেও যুদ্ধের থামার কোনও লক্ষণ নেই। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে আগামী দিনে দৈনন্দিন জীবনের বাজেট সামলানো সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন