Top News

ব্যাটিং ধসে বাংলার স্বপ্ন ভঙ্গের মুখে, ফাইনালে উঠতে জম্মু–কাশ্মীরের দরকার আর ৮৩ রান

 



তৃতীয় দিনের শুরুটা ছিল বাংলার দখলে, কিন্তু দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে গেল জম্মু–কাশ্মীরের হাতে। রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে এখন ফাইনালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে উত্তরাঞ্চলের দলটি।

দিনের শুরুতেই দাপট দেখান মহম্মদ সামি। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে জম্মু–কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস। ৯০ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুলে নেন তারকা পেসার, যা তাঁর রঞ্জি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এর আগে ৭৯ রান দিয়ে ৭ উইকেট ছিল তাঁর সেরা। সামির এই পারফরম্যান্সের সুবাদে ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু–কাশ্মীর থামে ৩০২ রানে। দুটি উইকেট নেন মুকেশ কুমার। ফলে ২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলা।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ অভিমন্যু ঈশ্বরনের দল। মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় বাংলা। অধিনায়ক ঈশ্বরন করেন ৫ রান। সুদীপ চট্টোপাধ্যায় ও সুদীপ কুমার ঘরামি খাতা খুলতে পারেননি। অনুষ্টুপ মজুমদার করেন ১২। সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন শাহবাজ আহমেদ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানের মোট লিড দাঁড় করাতে সক্ষম হয় বাংলা।

১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের শেষে জম্মু–কাশ্মীরের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৪৩। জয়ের জন্য প্রয়োজন আর মাত্র ৮৩ রান, হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। ইতিহাস গড়ার হাতছানি এখন তাদের সামনে—প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ওঠার সুযোগ।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু–কাশ্মীরের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৯৮। তৃতীয় দিনের শুরুতে সামির ইনকাটারে দ্রুত ফেরেন শুভম খাজুরিয়া (৩) ও ইয়াওয়ার হাসান খান (২)। মুকেশ কুমারের বলে আউট হন শুভম পুন্দির (৮)। তবে আকিব নবি (৪২) ও যুধবীর সিং (৩৩) লড়াই চালিয়ে যান। দলীয় রান ২০০ পেরোতেই ফের সামির ঝলক—আবিদ মুস্তাক, কানহাইয়া ওধাওয়ান ও বংশজ শর্মাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আকিব ও যুধবীরের উইকেটও নেন সামি।

চলতি মরশুমে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সামির উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৬৭। কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ে ম্যাচের রাশ এখন জম্মু–কাশ্মীরের হাতে। চতুর্থ দিনেই ফয়সালা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন