Top News

থালায় উঠবে না করলার মাছ! ৭ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জলপাইগুড়িতে সতর্কতা

নদীর জলে হঠাৎ ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ। মুড়ি-মুড়কি মতো ভাসছে মাছ, কিন্তু কোনোটাই খাওয়ার যোগ্য নয়। বড় বড় আড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, শরপুঁটি সহ বিভিন্ন মাছ ভেসে উঠেছে। কোনোটা মরা, আবার কোনোটা আধমরা অবস্থায় ডাঙার দিকে উঠে লাফাচ্ছে। যা দেখার পর তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এখন প্রশ্ন এই দৃশ্য কি শুধু প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র?



রবিবার সকালে শহরের মাসকলাইবাড়ি বিশ্বাসপল্লি এলাকায় করলা নদীতে প্রচুর মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর পাড়ে ভিড় জমান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পিঙ্কু বিশ্বাস। পরে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন, মৎস্য দফতর এবং পুরসভার চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

অনেকেই এই মাছ ধরে বাড়ি নিয়ে যান, এমনকি কিছু মাছ স্থানীয় বাজারেও পৌঁছে যায় বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নদী থেকে ভেসে ওঠা মাছ কেউ যেন না খায় বা বাজারে বিক্রি না করে, তার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। পুরসভা ও মৎস্য দফতর যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষক্রিয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। অসাধু মৎস্য কারবারিদের নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতীতেও ২০১১ সালে একইভাবে কীটনাশক প্রয়োগের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল করলা নদীতে।

করলা নদী জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরে তিস্তা নদীতে মিশেছে। একসময় এই নদী ছিল মাছের ভাণ্ডার। কিন্তু বারবার এমন ঘটনার ফলে ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। অতীতে এই নদীর মাছ খেয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাই এত বছর পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কি হতে চলেছে, তা নিয়েই এখন আতঙ্কিত শহরবাসী।

প্রশাসনের তরফে তদন্তের আশ্বাস মিললেও এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও কারণ সামনে আসেনি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আবারও কিছু অসাধু মানুষের লোভের বলি হচ্ছে করলা নদী? আর যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই নদী কি শুধুই মৃত মাছের স্মৃতিবাহী জলধারায় পরিণত হবে? এই প্রশ্নই এখন প্রত্যেকটা স্থানীয়দের মনে। এখন দেখার বিষয় কোন দিকে এগোয় করলার ভবিষ্যৎ।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন