বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে একদিনেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ভিন্ন মাত্রার বাস্তবতা, কারণ আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের দলীয় নিবন্ধন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল অনুপস্থিত থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে।
নির্বাচনী মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি দেশের অধিকাংশ আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-ও একাধিক আসনে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় এসেছে। এদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছে। মনোনয়ন যাচাই, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা—সব মিলিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম ইতিমধ্যেই জোরদার হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ ছাড়া এই নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর জন্য বড় সুযোগ ও বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে ভোটব্যাংক দখলের সম্ভাবনা, অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নির্বাচনকালীন পরিবেশ কেমন থাকে, সেদিকেই এখন নজর দেশবাসীর।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী অধ্যায় হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন