Top News

দোলের আগেই বড় সুখবর! বাড়তে পারে মহার্ঘ্য ভাতা

দোল মানেই রঙ, আনন্দ, খুশির সময়। কিন্তু এ বছর রঙের সঙ্গে মিশেছে আরও একটা প্রতীক্ষা—মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জোর জল্পনা, তবেকি দোলের আগেই মিলবে ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা?



বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন, যা জুলাই ২০২৫ থেকেই কার্যকর হয়েছে। শ্রম ব্যুরোর প্রকাশিত সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের গড় বৃদ্ধির ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে, এই হার ৬০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ অন্তত ২ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন্দ্র বছরে দু’বার ডিএ সংশোধন করে—একবার জুলাই থেকে, আরেকবার জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এবার জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। তবে মার্চের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলতে পারে বলেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা।

কর্মীদের পকেটে কতটা প্রভাব?

যদি কোনও কর্মীর মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা হয়, তবে ৫৮ শতাংশ হারে তিনি পাচ্ছেন ২৯,০০০ টাকা ডিএ। হার ৬০ শতাংশ হলে তা দাঁড়াবে ৩০,০০০ টাকায়। অর্থাৎ মাসে ১,০০০ টাকা বেশি। মূল বেতন ১ লক্ষ হলে বাড়তি মিলবে প্রায় ২,০০০ টাকা।

সংখ্যাটা শুনতে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বাড়তি অর্থই অনেকের কাছে স্বস্তির আশ্বাস, কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই ডিএ কি সত্যিই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে? যেখানে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম, ভাড়া, চিকিৎসা খরচ লাগাতার বাড়ছে, সেখানে ২ শতাংশ বৃদ্ধি কতটা কার্যকর? আকাশছোঁয়া বাজারের দরে এই ২% বৃদ্ধি কি যথেষ্ট?

আরেকটা প্রশ্ন—কেন প্রতিবার উৎসবের মুখেই ডিএ ঘোষণার জল্পনা তুঙ্গে ওঠে? অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত কি শুধুমাত্র ক্যালেন্ডারের উৎসব দেখে নেওয়া উচিত, না কি আর্থিক সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত করা উচিত? প্রতি ছয় মাসে যখন মূল্যসূচকের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন ঘোষণায় এত দেরি কেন? কিসের জন্যে এত অপেক্ষা!

দোলের আগে মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা হলে তা নিঃসন্দেহেই সুখবর হবে। কিন্তু শেষ প্রশ্নটা থেকেই যায়— ডিএ বৃদ্ধি কি সত্যিই স্বস্তি দিচ্ছে? দোলের রং কি সত্যিই কর্মীদের পকেটে লাগবে? নাকি আবারও ঘোষণা পিছিয়ে গিয়ে কর্মীদের অপেক্ষাই দীর্ঘ হবে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন