ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার। তিনি জানান, রমেশ চন্দ্র সেন আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা জানান, হাসপাতালে আনার সময়ই তাঁর অবস্থা গুরুতর ছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।
রমেশ চন্দ্র সেনের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে। তাঁর বাবা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মা বালাশ্বরী সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির উপনির্বাচনে। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন।
রমেশ চন্দ্র সেনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছিল, সেগুলো ছিল নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। তবে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযুক্ত করে আটক রাখা হয়েছিল। এ দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে এখনো কোনো আদালত চূড়ান্ত রায় দেয়নি।
কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনায় মানবিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের কারাগারে মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তদন্ত বা সরকারি পর্যায়ের কোনো নতুন সিদ্ধান্ত এ বিষয়ে এখনো জানানো হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন